top of page

আরও সহজগম্য হচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিকঃ স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কাজ করছে ডিপিএফ মৌলভীবাজার

Updated: Dec 6, 2022


বালিকান্দি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে গড়ে ৩০-৪০ জন রোগী সেবা গ্রহণ করেন
বালিকান্দি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে গড়ে ৩০-৪০ জন রোগী সেবা গ্রহণ করেন

মৌলভীবাজারের বালিকান্দি কমিউনিটি ক্লিনিক সম্পর্কে ডিস্ট্রিক্ট পলিসি ফোরামের (ডিপিএফ) সদস্য আহসান হাবিব বলেন, “আগে এই ক্লিনিক বেশির ভাগ সময়ই বন্ধ থাকত। কিন্তু এখন এটা প্রতিদিন খোলা থাকে। প্রতি মাসে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে এখানে অনেকগুলো শিশু জন্মগ্রহণ করে।” মৌলভীবাজারে ১৭৯টি কমিউনিটি ক্লিনিক বা ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে, যেখানে রোগীদেরকে বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ দেয়া হয়। ফোরামের কার্যক্রমের ফলে বেশ কিছু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবার মানের দারুণ উন্নতি হয়েছে। ফলে, এলাকাবাসী এখন এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেই উন্নত সেবা পাচ্ছেন।


প্ল্যাটফর্মস ফর ডায়ালগ (পিফরডি) প্রকল্পের একটি অংশ হিসেবে গঠিত হয়েছে মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট পলিসি ফোরাম। স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রদত্ত সেবাগুলো সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করার পাশাপাশি ক্লিনিক ব্যবস্থাপনা কমিটিকেও সক্রিয় করার লক্ষ্যে কাজ করছে এই ফোরাম। এছাড়া, সামাজিক দায়বদ্ধতার উপকরণগুলো সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করতে ডিপিএফ সদস্যরা বেশ কিছু সভা ও কর্মশালার (অনলাইন এবং অফলাইন) আয়োজন করেন। এসব সভায় তারা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবার মান উন্নত করতে সামাজিক দায়বদ্ধতার উপকরণগুলোর ব্যবহার নিয়েও আলোচনা করেন। ২০২১ সালের ১৫ মার্চ একটি পরিচিতি সভার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে মৌলভীবাজার ডিপিএফ। একই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর তারা সামাজিক দায়বদ্ধতার উপকরণের বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ নেন। পরবর্তীতে, ১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সংলাপ, ২৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত গণশুনানি ও বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে ডিপিএফ সদস্যরা সামাজিক দায়বদ্ধতার চারটি উপকরণ নিয়ে আলোচনা করেন যেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ এগুলো সম্পর্কে জানতে পারে।

মৌলভীবাজার ডিপিএফের সদস্যবৃন্দ
মৌলভীবাজার ডিপিএফের সদস্যবৃন্দ

ইউরোপিয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ও বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সহায়তায় প্ল্যাটফর্মস ফর ডায়ালগ (পিফরডি) প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ প্রকল্পেরই নতুন উদ্যোগ হলো ডিস্ট্রিক্ট পলিসি ফোরাম। সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রধান চারটি উপকরণ – সিটিজেন চার্টার, তথ্য অধিকার, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল ও অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের জবাবদিহিতা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সুশীল সমাজ ও জনসাধারণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করছে এই ফোরাম। দেশের ১২টি জেলায় পিফরডির আওতায় এমন ১২টি পলিসি ফোরাম গঠন করা হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন, বাল্যবিয়ে রোধ ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবার মান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে কাজ করছে জেলাভিত্তিক এসব ফোরাম। তাদের লক্ষ্য ছিল সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রধান চারটি উপকরণ ব্যবহার করে সহযোগিতামূলক ও ঐক্যবদ্ধ পদ্ধতিতে সমাজ উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রশাসন ও সুশীল সমাজের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে আনা। শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী ও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি সহ ২০ জন সদস্যের সমন্বয়ে ডিপিএফ গঠনে মূল ভূমিকা পালন করেন পিফরডি প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা আকলিমা চৌধুরী।


প্রথমে ডিপিএফ সদস্যরা ক্লিনিক পরিচালনা কমিটি ও কমিউনিটি সাপোর্ট গ্রুপকে সক্রিয় করে তোলেন। এরপর, ডিপিএফ আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রদত্ত সেবাগুলো সম্পর্কে জানতে পারলেন। সেইসাথে, জেলা সিভিল সার্জন স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন শুরু করলেন। সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবা উন্নত হওয়া শুরু করলো। এমনকি, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোও সক্রিয় হয়ে উঠলো। স্বাস্থ্যকর্মীরাও নিয়মিত তাদের দায়িত্ব পালন করতে শুরু করেন। ফলে, চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি জেলায় স্বাভাবিক প্রসবের হার ৩২ শতাংশ থেকে ৪৮ শতাংশে উন্নীত হয়।

স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে নিঃসঙ্কোচে নিজেদের সমস্যার কথা বলছেন রোগীরা
স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে নিঃসঙ্কোচে নিজেদের সমস্যার কথা বলছেন রোগীরা

স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের কাজে আন্তরিক হওয়ায় রোগীরাও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে শুরু করেন। মৌলভীবাজারের মানুষ এখন মাথাব্যথা বা জ্বরের মত আপাত ছোটখাটো স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়েও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান। ওজন মাপা, রক্তচাপ পরীক্ষা করা সহ স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রদত্ত সব ধরণের সেবা নিচ্ছেন তারা। আগত রোগীদের অবস্থা জটিল মনে হলে স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদেরকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

“সেবাদাতা ও সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে একটি সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছে ডিপিএফ,” মো: আবদুর রাজ্জাক, উপ-পরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, মৌলভীবাজার।
“সেবাদাতা ও সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে একটি সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছে ডিপিএফ,” মো: আবদুর রাজ্জাক, উপ-পরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, মৌলভীবাজার।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেন,

“ডিপিএফ সেবাদাতা ও সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করেছে। কথা বলার প্ল্যাটফর্মের অভাবে সাধারণ মানুষ অনেক সমস্যা সমাধান করতে পারছিল না। একই কারণে সেবাদাতারাও নিজেদের সীমাবদ্ধতা বোঝাতে পারছিলেন না। ডিপিএফ এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যেখানে উভয় পক্ষ আলোচনা করে অনেক সমস্যার সমাধান খুঁজে পেয়েছে। সুশীল সমাজ, নীতিনির্ধারক ও জনসাধারণকে এক জায়গায় এনেছে এই ফোরাম। ফলে, সরকারের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় সুশীল সমাজের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া, এই ফোরাম জবাবদিহিতার চর্চা করছে এবং নাগরিক স্বার্থের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব করেছে।”

ডিপিএফের প্রভাব ও ভবিষ্যত সম্পর্কে ডিপিএফ সভাপতি নাজমুল ইসলাম মুহিব বলেন,

“এটা হলো পরিবর্তনের পথে মৌলভীবাজার জেলার প্রথম পদক্ষেপ। এই পরিবর্তনের শুরুটা করেছে ডিপিএফ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের প্রকল্প শেষ হয়ে গেলেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো উন্নতির পথেই থাকবে।” তার বক্তব্যের সমর্থন পাওয়া যায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: আব্দুর রাজ্জাকের কণ্ঠেও, “অনেক বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে ডিপিএফ সদস্যরা জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় পরিবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছেন। আমি মনে করি, ডিপিএফের কার্যক্রম সেই বিশাল পরিবর্তনের পথে প্রথম পদক্ষেপ।”

এই প্রকাশনাটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় তৈরি। প্রকাশনার বিষয়বস্তুর দায়িত্ব প্ল্যাটফর্মস ফর ডায়ালগ প্রকল্পের। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতামতকে প্রতিফলিত নাও করতে পারে।

Comments


bottom of page