এলাকার উন্নয়নে ২০ বছর যাবত কাজ করছে একটি সিএসও সংস্থা, প্রচার করছে তথ্য অধিকারের বার্তা


সিএসও সদস্যগণ এলাকার মানুষকে তথ্য অধিকার বিষয়ে সচেতন করার ব্যাপারে আলচনা করছেন।


সংগঠনটির নাম নেয়া হয়েছে দুটি আরবি শব্দ (আল আমিন) থেকে, যার অর্থ ‘বিশ্বস্ত সহযোগী’। কয়েকজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন তরুণের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে এই যুব সংগঠন। জামালপুরের গাইবান্ধা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষকে সাহায্য করার মধ্য দিয়ে সংগঠনটি তার নামের যথার্থতা প্রমাণ করেছে।

২০০১ সালে পুরারচর গ্রামের ৪০ জন যুবক এমদাদ আল আমিন তরুণ সংগঠন গড়ে তোলেন। তারা বুঝতে পারেন যে, গ্রামের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে না পারলে সরকারের কোনো উদ্যোগ ঠিকমতো কাজ করবে না।

সংগঠনের প্রথম কাজ ছিল এলাকায় একটি সেতু ও রাস্তা তৈরি করা। ব্রহ্মপুত্র নদের পলিমাটি দ্বারা উর্বর হলেও গাইবান্ধা ইউনিয়নের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরো উন্নত করার মতো অবকাঠামো ছিল না। তবে দুই দশক পর বর্তমানে এখানের গ্রামগুলোতে ফসল উৎপাদন রীতিমতো কৃষি বিভাগের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এভাবে ইউনিয়নের বাসিন্দাদের ভাগ্যের চাকাও ঘুরে গেছে।

“এসব পরিবর্তন একদিনে আসেনি,” বলছিলেন সংগঠনের প্রধান নাজমুল। ইতোমধ্যেই সংগঠনটি ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রকল্প প্ল্যাটফর্মস ফর ডায়লগের (পিফরডি) কৌশলগত সহযোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে প্রকল্পটি।


তাদের প্রচেষ্টায় ঐ এলাকা বদলে যাওয়ায় সংগঠনটি বর্তমানে অন্যান্য কাজে গুরুত্ব দিচ্ছে। দারিদ্র্য বিমোচনে তারা সরকারের সোশ্যাল ডেভেলপমেণ্ট ফাউণ্ডেশনের (এসডিএফ) সাথে কাজ করেছে। তখন থেকেই ঐ ইউনিয়নে বন্যার সময় বার্ষিক ত্রান প্রকল্প চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি। পাশাপাশি তারা স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার জনস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।


গ্রামের সীমিত আয়ের মানুষদেরকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি সংস্থাটি বন্যা উপদ্রুত জনপদে বহু মানুষকে পাকা ঘর নির্মাণে সহায়তা করেছে।


এলাকায় পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে সংগঠনের প্রচেষ্টার ব্যাপারে হাসান আরো বলেন, “আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরকে ঋণ দেই। আমাদের ঋণ আদায় নীতি খুবই গরিব-বান্ধব। এই এলাকার জন্য আমাদের অবদানের কথা সবাই জানেন বলে আমরা এখানে খুবই পরিচিত।”


২০১৭ সাল থেকে সংগঠনটি পিফরডি প্রকল্পের সাথে কাজ করছে। এলাকায় তাদের সুনাম ও সমাজসেবামূলক কাজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এ সংস্থা মাদকাসক্তি, শিক্ষার মান ও তথ্য অধিকার বিষয়ক তিনটি সোশ্যাল অ্যাকশন প্রজেক্ট (এসএপি) বাস্তবায়ন করে।


এসএপিগুলো পরিচালনা করেছেন সংগঠনের মাল্টি অ্যাক্টর পার্টনার মো: নাজমুল হাসান ফেরদৌস, শিখা রানী আতিকা সুলতানা। এসএপিগুলো তাদের জন্য দারুন এক অভিজ্ঞতা ছিল বলে জানান তারা।


সাদ্দাম হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীর কথা বলতে গিয়ে নাজমুল বলেন,


“আগে সরকারী কর্মকর্তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার কোনো উপায় জানা ছিল না আমাদের। এখন এসএপির মাধ্যমে আমরা মানুষকে সেই উপায় শিখিয়ে দিয়েছি। এর ফলে পরিস্থিতির উন্নতিও হচ্ছে।”

তথ্য অধিকার পদ্ধতি ব্যবহার করে ভূমিদস্যুদের কবল থেকে নিজের জমি রক্ষা করেন সাদ্দাম। একটি এসএপি বৈঠক থেকে এ পদ্ধতির ব্যাপারে জানতে পারেন তিনি।


সাদ্দাম হোসেন বলেন, “তথ্য অধিকার সম্পর্কে না জানলে ঐ ভূমিদস্যুরা আমার সব জমি নিয়ে যেতো। একটি অভিযোগ দায়ের করার পর আমি বুঝতে পারলাম যে, ওদের দেখানো সরকারি নোটিশগুলো ছিল ভুয়া।”


পিফরডির আওতায় সহায়তা পাওয়া হাজারো মানুষের একজন সাদ্দাম। সংগঠনের সদস্যদের আশা, তারা সবসময় এভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারবেন। হাসিমুখে নাজমুল হাসান ফেরদৌস বলেন, “পিফরডির সাথে কাজ করে আমরা দারুণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। সংগঠনের নামের মতোই বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে মানুষের পাশে থাকবো আমরা।”

2 views0 comments