কীভাবে একটি সিএসও সংস্থা প্রতিবন্ধীদের জন্য সামাজিক সেবা নিশ্চিত করলোঃ একটি শুদ্ধাচারের গল্প


একজন প্রতিবন্ধি ব্যক্তিকে পটুয়াখালির পিএএসএ কর্তৃক পরিচালিত পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।


পটুয়াখালী সদর উপজেলায় একটি ক্লিনিকের ওপর অবস্থিত পিপল'স অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পিএএসএ) এর কার্যালয়। এই ক্লিনিকে স্থানীয় মানুষ স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকে। “আমাদের সমাজসে


বামূলক কাজের একটি মূলভিত্তি হলো এই ক্লিনিক। আমরা প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি স্কুল, একটি নার্সিং কলেজ এবং একটি বৃদ্ধাশ্রম পরিচালনা করি,” বলছিলেন মো: জাকির হোসেন। পেশায় তিনি একজন আইনজীবি। ২০০৯ সালে এই অনুন্নত জেলার বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নত করার লক্ষ্যে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।

প্রতিবন্ধীদেরকে সহায়তা দেয়ার লক্ষ্যে তার সংগঠনের কার্যক্রমের ব্যাপারে জাকির বলেন, “সমাজের প্রতিবন্ধী, বয়স্ক এবং গরিব মানুষদের বাড়তি সহায়তা দরকার। দরিদ্র পরিবারে সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত থাকায় বয়স্করা সেখানে প্রায়ই অবহেলার শিকার হন। এমন বয়স্ক মানুষদের জন্য নিরাপদ স্থান হতে পারে আমাদের বৃদ্ধাশ্রম।” তিনি আরো জানান, প্রতিবন্ধী শিশুদেরকে সমাজে অন্তর্ভুক্ত করতে সহায়তা করে তাদের স্কুল।


সংগঠনের নার্সিং কলেজ দেশে দক্ষ সেবাকর্মীর চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে। দাতব্য সংস্থা হিসেবে তারা তরুণ উদ্যোক্তাদেরকে দুগ্ধ খামার, মাছ চাষ, মুরগীর খামার ও নার্সারি তৈরিতে আর্থিক সহায়তা করেন। “আমাদের সংগঠন তামাক বিরোধী অভিযান, স্যানিটেশন ও আইনী সহায়তা দেয়ার কাজ করেছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠনকে একত্র করেছি আমরা,” বলেন জাকির।


প্ল্যাটফর্মস ফর ডায়লগের (পিফরডি) কৌশলগত সহযোগী হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সংস্থাটি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠনটি এ প্রকল্পের কয়েকটি সোশ্যাল অ্যাকশন প্রজেক্ট (এসএপি) বাস্তবায়ন করেছে।


প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য চলাচল সহজ করা এবং তাদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা পিফরডির আওতাভুক্ত একমাত্র নাগরিক সংগঠন পিএএসএ। এ সংক্রান্ত এসএপির পরিচালক সালাউদ্দিন আহমেদ বাবু জানান, এ বিষয়ে সংগঠনের পূর্বাভিজ্ঞতা থাকায় তারা এই এসএপি বেছে নিয়েছেন।


“টাকা-পয়সা রোজগার করতে পারেনা বলে সমাজে প্রতিবন্ধীদেরকে প্রায়ই বোঝা হিসেবে দেখা হয়। এ কারণে, তাদের সরকারি সহায়তা ও শিক্ষার সুযোগ দেয়া জরুরি,” বলছিলেন বাবু।

তিনি আরো জানান, পাশাপাশি অবস্থিত তিনটি ইউনিয়নের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শনাক্তকরণে জোর দেয় এই এসএপি। তাছাড়া, আরো বেশি মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনার লক্ষ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে একটি ভ্রাম্যমান দল গঠন করা হয়। “প্রায়ই দেখা যায়, প্রতিবন্ধীরা নিজেরা সমাজসেবা অফিসে গিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রকল্পে আবেদন করতে পারেন না। প্রতিবন্ধীদের নিবন্ধন পেতে সাহায্য করতে আমরা একটি স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করেছি।”


তবে এসএপিটি বেশ চ্যলেঞ্জিং ছিল। বাবু মনে করেন, হেলথ ক্যাম্প ও সাহায্যকারী যন্ত্রগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেলে আরো বেশি মানুষকে এসএপির আওতায় আনা যেতো। তিনি বলেন, “প্রয়োজনীয় যন্ত্রগুলোর দাম বেশি হওয়ায় এগুলোর অভাবে প্রতিবন্ধীদেরকে প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এসব যন্ত্র কিনে দেয়া হলে তাদের অনেক উপকার হবে।” তিনি আরো জানান, এসএপির আওতায় বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধীদের জন্য হুইলচেয়ার, র‍্যাম্প এবং ব্রেইল তথ্য তালিকার ব্যবস্থা করা হয়।


পিফরডির কাজে তাদের সংগঠনের মূল লক্ষ্য প্রতিফলিত হয়েছে দেখে সভাপতি জাকির বেশ সন্তুষ্ট। “আমি সবসময় বলি, সমাজে সবচেয়ে বেশি সুবিধা দেয়া উচিত সুবিধাবঞ্চিতদেরকে। এই এসএপির মাধ্যমে আমরা ৩০০ জন প্রতিবন্ধী মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনতে পেরেছি। ক্ষুদ্র হলেও, এই প্রচেষ্টা একদিন সমাজে পরিবর্তন আনবেই।"



জেলে সম্প্রদায়ের শিশুরা পটুয়াখালির সিএসও সংস্থাটির উদ্যোগে নির্মিত বিদ্যালয়টিতে পড়াশোনা করছে।

This publication was produced with the financial support of the European Union. Its contents are the sole responsibility of Platforms for Dialogue and do not necessarily reflect the views of the European Union.

18 views0 comments