top of page

গাইবান্ধায় হাতে কলমে জিআরএস সম্পর্কে মানুষকে শেখালো বোয়ালি ইয়াং স্পোর্টিং ক্লাব


গাইবান্ধার বোয়ালি ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন বোয়ালি ইয়াং স্পোর্টিং ক্লাব। বর্তমান সভাপতি মো: নাওশের আলমের বড় ভাই মরহুম সুলতান আলীর হাতে ১৯৬০ সালে ক্লাবটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন এর নাম ছিল বোয়ালি অ্যাসোসিয়েশন ক্লাব।


“খেলাধুলা আয়োজনের জন্য বিখ্যাত ছিল আমাদের ক্লাব। ২০০৮ সালে ক্লাবের বর্তমান কমিটি এটাকে সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করে। তখনই ক্লাবের নাম পাল্টানো হয়,” বলছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ কবির।


“খেলাধুলার পাশাপাশি আমরা এখন মাদক, বাল্যবিবাহ, জুয়া ইত্যাদির বিরুদ্ধে সচেতনতা অভিযান চালাই। অসামাজিক কার্যকলাপের ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত সোচ্চার।”

“এ পর্যন্ত আমরা ১০টির বেশি বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছি। এখন মানুষ বাল্যবিবাহ দেয়ার সাহস করে না। এছাড়া, আমরা গরিব ছাত্রছাত্রীদেরকে আর্থিকভাবে সহায়তা করি। কিছুদিন ধরে আমরা নারী নির্যাতনও বন্ধের চেষ্টা করছি।”


সংস্থাটিকে ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্ল্যাটফর্মস ফর ডায়লগ (পিফরডি) প্রকল্পের আওতাভুক্ত একটি নাগরিক সংগঠন হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেয়া হলে তারা তা সাদরে গ্রহণ করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে পিফরডি। সুশাসন নিশ্চিত করতে এবং সরকারের জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থায় জনসাধারণ ও নাগরিক সংগঠনগুলোকে যুক্ত করতে কাজ করছে এ প্রকল্প।


“ব্রিটিশ কাউন্সিল আসার পর আমরা একজন শারীরিক প্রতিবন্ধীসহ মোট ১৬টি মেয়েকে এবং একজন প্রতিবন্ধী ছেলেকে আমাদের সদস্য বানিয়েছি। তারা ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে সোশ্যাল অ্যাকশন প্রজেক্টে (এসএপি) কাজ করেছেন।”


পিফরডির আওতায় বোয়ালি ইয়াং স্পোর্টিং ক্লাব সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রকল্পে দূর্নীতি, অভিযোগ দায়ের ব্যবস্থা এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থী বিষয়ক তিনটি এসএপি বাস্তবায়ন করেছে।


ঐ এলাকার মানুষের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছে অভিযোগ দায়ের ব্যবস্থা বিষয়ক এসএপি। এ প্রকল্পের পরিচালক মো: এনামুল হক বলেন, “ন্যায্যভাবে প্রাপ্য সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হলে কোথায় কীভাবে অভিযোগ জানাতে হবে, সে ব্যাপারে গ্রামবাসীর ধারণাই ছিল না,”


“আমরা ইউনিয়ন পরিষদ, সাধারণ এলাকাবাসী ও গণ্যমান্য মানুষদের সাথে বসে তাদেরকে অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতন করেছি। এছাড়া, আমরা ছয়টি হাইস্কুলে সভা আয়োজন করেছি। অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা কী এবং কীভাবে সরকারি ওয়েবসাইট ও ইউনিয়ন পরিষদে সরাসরি লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে হবে, সে ব্যাপারে ছাত্রদেরকে জানিয়েছি।”


“অবশেষে আমরা ছয়টি হাইস্কুল ও ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে একটি করে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করেছি। বাক্সগুলো খুলে সব অভিযোগের প্রতিকার করার জন্য সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটিও গঠন করে দিয়েছি। এরপর অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে আমরা দুইটি ফলো-আপ মিটিংও করেছি।”

দূর্নীতি সংক্রান্ত এসএপির পরিচালক আব্দুল মোনতাকিন জুয়েল জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তার সহযোগীরা সাধারণ নাগরিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করেছেন।


“আমরা মূলত তথ্য অধিকার ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করেছি এবং সবশেষে বোয়ালি ইউনিয়ন পরিষদে একটি সিটিজেন চার্টার স্থাপন করেছি,” বলছিলেন জুয়েল।


“আমাদের কাজের আগে মানুষ জানতো না যে, একটি বাচ্চার জন্মের ৪৫ দিন পর্যন্ত বিনামূল্যে জন্ম সনদ পাওয়া যায়। কিন্তু এখন তারা তাদের অধিকারের ব্যাপারে সচেতন। তারা জানেন যে, সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠান তাদেরকে সেবা দিতে বাধ্য।”


ঝরে পড়া শিক্ষার্থী বিষয়ক এসএপির পরিচালনা করেছেন মো: হাসিবুর রহমান লিমন। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল গোটা ইউনিয়নে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। তবে, আমরা বিশেষভাবে খামার বোয়ালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে কাজ করেছি। এই স্কুলে আমরা ২৫ জন অনিয়মিত ছাত্রছাত্রী পেয়েছি।”


“আমরা শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্কুল কমিটির সাথে আলোচনা করেছি। এমনকি লেখাপড়া ছেড়ে দেয়া ছেলেমেয়েদেরকে স্কুলে ফিরিয়ে আনতে আমরা তাদের বাড়ি বাড়ি গেছি। ২৫ জনের ১৫ জনই এখন নিয়মিত স্কুলে যায়। এটা সম্ভব হয়েছে কারণ, আমরা শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা, অনুপ্রেরণার অভাব, অকার্যকর স্কুল কমিটি, দারিদ্র্যসহ ঝরে পড়ার পেছনে থাকা প্রতিটি সমস্যার সমাধান করেছি।”


বোয়ালি ইয়াং স্পোর্টিং ক্লাবের মোট সুবিধাভোগীর সংখ্যা ২,০০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় একটি ভূমিকা পালন করেছে পিফরডি। ক্লাবের সদস্যদের আশা, দু-এক বছরের মধ্যেই এই সংখ্যা কয়েকগুণ হয়ে যাবে।




Comments


bottom of page