top of page

তৃতীয় লিংগের মানুষের সামাজিক অধিকার নিয়ে কাজ করছে রাজশাহীর 'বাঁচার আশা সাংস্কৃতিক সংগঠন'


বাঁচার আশা সাংস্কৃতিক সংগঠন রাজশাহীর নওহাটায় অবস্থিত। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের দ্বারা পরিচালিত এই সংগঠন। নিজের লৈঙ্গিক পরিচয় দিয়ে সংগঠনের সভাপতি মোস্তফা সরকার বিজলী অভিযোগ করেন, মানুষের দুর্ব্যবহার থেকে বাঁচতে তাদেরকে যেকোন কাজ আড়ালে করার পরামর্শ দেয়া হয়।

সমাজের অন্য সব মানুষের মত বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও চাকরির সুবিধা না পাওয়ায় সামান্য অর্থের বিনিময়ে তাদেরকে যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করতে হয়। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তারা মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন এক শোষিত শ্রেনীর মানুষে পরিণত হয়েছেন। তাদের দুরাবস্থার চরম মাত্রা প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন,


এমনকি মারা যাবার পর মসজিদের ইমামও আমাদের কবর দিতে চায় না। তাহলে আমাদের মত মানুষের লাশ নিয়ে কোথায় যাব আমরা?

তৃতীয় লিঙ্গের অধিকার রক্ষার্থে বিজলী বর্তমানে নওহাটার ১০৮ জন মানুষকে নিয়ে কাজ করছেন। জন্মের পর থেকেই একের পর এক খারাপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন তিনি। বিজলী জানান, শিশু অবস্থায় যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হন তিনি। তিনি আরো বলেন, প্রায় প্রত্যেক তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জীবনে এ ধরণের নির্যাতনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এসব বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে বিজলী এ সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন।


এক সময়ে গ্রামের যাত্রাপালায় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের সাথে অভিনয় করতেন তিনি। সেসময়ে তিনি লক্ষ্য করেন, শুধু এনজিও কর্মীরা তাদের সাথে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কথা বলেন। এমনকি বিভিন্ন সাহায্য-সহযোগিতাও করেন।


১৯৯৮ সালে বিজলী একটি এনজিও প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তার সহশিল্পীসহ অন্যান্যদেরকে নিয়ে ৫৫ জনের একটি দল গঠন করেন। এনজিওটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ২০০৩ সালে। তিনি বলেন, আমরা মানুষ হিসেবে সবসময় নিম্নতর জীবনযাপন করেছি। তাই আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য কিছু করা দরকার ছিল।” ২০০৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নাটোর, রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর থেকে শুরু করে দেশের অন্যান্য জেলায় তারা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করেছেন। বর্তমানে এনজিওটি আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি চিকিৎসা, বাসস্থান ও আইনী সহায়তাও দিয়ে থাকে। তাছাড়া এই সংস্থা প্রাইড প্যারেডে অংশ নিয়ে বাংলাদেশে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটাধিকারসহ অন্যান্য সকল বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে সহায়তা করে।


২০১৭ সালে ‘বাঁচার আশা সাংস্কৃতিক সংগঠন’ প্ল্যাটফর্মস ফর ডায়লগের (পিফরডি) আওতায় সুশীল সমাজ সংগঠন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ও বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সহায়তায় পিফরডি পরিচালনা করছে ব্রিটিশ কাউন্সিল।


পিফরডির কল্যাণে বিজলীর সংগঠনটি প্রথমবারের মত নিজ সম্প্রদায়ের বাইরের মানুষের জন্য কাজ করতে সক্ষম হয়েছে। সোশ্যাল অ্যাকশন প্রজেক্ট (এসএপি) এর মাধ্যমে, সরকারি ও এনজিও কর্মীদের অংশগ্রহণে কৃষক থেকে শুরু করে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেবা সন্ধানকারীদের নিয়ে কাজ করেছে সংগঠনটি।


বিজলীর মতে, পিফরডির প্রকল্পগুলোতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিলো অভাবনীয়। তিনি আরো বলেন,

এই প্রকল্পের কাজে আমাদেরকে সম্মানের সাথে স্বাগত জানানো হয় এবং একইসাথে ভালো কাজ করার সুযোগ করে দেয়া হয়। আমরাও এর সদ্ব্যবহার করেছি।


তবে বিজলী আমাদেরকে মনে করিয়ে দেন, এখনো প্রতিটি পদক্ষেপে তাদেরকে বৈষম্যের শিকার হতে হয়। তাই এখনো অনেক কিছুই পরিবর্তন করা বাকি।


Comments


bottom of page