দুর্নীতি প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে কিশোরগঞ্জের মানুষকে সচেতন করছে একটি সিএসও সংস্থা


সিএসও সদস্যগণ সচেতনতামূলক বক্তব্য সমৃদ্ধ ফেস্টুনসহ দাঁড়িয়ে আছেন।


মেঘবর্ষণ সমাজ কল্যাণ সংস্থা নামের সংগঠনটি একদল নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবী যুবকের গল্প বলে। সংস্থার সভাপতি আমিনুল হক মানিক জানান, ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে উপজেলার সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত তারা।

শুরুর দিকে আমাদের একটি কাজ ছিল শিশুশ্রম বন্ধ করা। আমরা ইউনিয়নের প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০০ শিশুশ্রমিক পাই। তাদের সবাইকে এলাকার স্কুলে ভর্তি করে দেয়া হয়েছিল। সেই সাথে, সেসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদেরকে আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছিল।

বলছিলেন মানিক।


সংগঠনের কর্মীদেরকে সাথে নিয়ে তিনি করিমগঞ্জ উপজেলায় শিশুশ্রম প্রায় বন্ধই করে দিয়েছিলেন। শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে তারা দারুণ ফল পেয়েছিলেন। “আপনারা বাজারে গিয়ে দেখেন। সেখানে একটি বাচ্চাকেও কাজ করতে দেখবেন না। শিশুশ্রম বিরোধী কাজের জন্য আমরা এখানে খুবই পরিচিত।”

তবে, শুধু এ কাজের জন্যই বিখ্যাত নয় সংস্থাটি। বর্তমানে এটি প্ল্যাটফর্মস ফর ডায়লগের (পিফরডি) অন্যতম কৌশলগত সহযোগী। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সহায়তায় পিফরডি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ব্রিটিশ কাউন্সিল।

পিফরডির সোশ্যাল অ্যাকশন প্রজেক্টের (এসএপি) অংশ হিসেবে মেঘবর্ষণ সমাজকল্যাণ সংস্থা বিভিন্ন বিদ্যালয়ে মাদক বিরোধী প্রচারণা চালিয়েছে। জনগণের প্রাপ্য মৌলিক সেবাগুলোর ব্যাপারে সরকারী কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় এনেছে। এছাড়া, কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার মান উন্নত করতেও কাজ করেছে তারা।

সরকারী সেবা বিষয়ক এসএপির পরিচালক মো: আবু বাহার। তিনি বলেন, “এসএপির অংশ হিসেবে ১৫০টি পরিবার সরকারি সেবার বিষয়ে সরাসরি চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছে।” তিনি আরো জানান, আগে ইউনিয়ন পরিষদের কাজ সম্পর্কে মানুষ কিছুই জানতো না। “চেয়ারম্যানের সাথে তারা এলাকার রাস্তাঘাট এবং পানি সরবরাহের বিষয়ে কথা বলেছে। সব সমস্যার সমাধান হবে বলে তাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন চেয়ারম্যান।”

আরেকটি এসএপিতে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী মাজহারুল ইসলাম বলেন, সাধারণ মানুষকে নীতিনির্ধারণী বিষয়ে জানানোর ক্ষেত্রে তাদের সংগঠনকে সাহায্য করেছে পিফরডি। তার মতে, এই জ্ঞান তাদের অধিকার বুঝে নেয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে।


“স্কুলে মাদকবিরোধী প্রচারণা চালানোর সময় আমরা শত শত ছাত্রছাত্রীকে তথ্য অধিকার ব্যবস্থায় আবেদন করা শিখিয়েছি। আমি তাদেরকে বলেছি, এই পদ্ধতি এলাকায় দূর্নীতি কমাতে সাহায্য করবে।”

তিনি আরো বলেন, মানুষ সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা বদলাতে চায়, কিন্তু তার নিয়ম জানে না।

সংগঠনের সভাপতি মানিক বলেন, পিফরডি তার সংগঠনকে আরো বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। ফলে, মানুষ নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলো জেনেছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই জ্ঞান তাদের কাজে লাগবে বলে মনে করেন তিনি।

এর আগে কিশোরগঞ্জ থেকে অপুষ্টি দূর করতে সংস্থাটি ‘দ্যা হাঙ্গার প্রজেক্ট’ নামের একটি প্রকল্পেও কাজ করেছে। তখন তারা সমাজসেবী ও চিকিৎসকদেরকে নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য নিয়মিত বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচী আয়োজন করেছে। এছাড়া, প্রতি শীতেই সংগঠনের ত্রাণ তহবিল থেকে দরিদ্রদেরকে কম্বল দেয়া হয়।

মানিক বলেন, গঠনমূলক কিছু করার উদ্দেশ্যে স্থানীয় যুবকেরা সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছে। “আমরা শুধুই একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ছিলাম। কিন্তু এখন পিফরডির কল্যাণে আমাদের কর্মীরাসহ এলাকার সাধারণ মানুষ নীতিনির্ধারণী বিষয়ে সচেতন। নীতিনির্ধারণী বিষয়ে এই জ্ঞান দীর্ঘমেয়াদে আমাদেরকে উপকৃত করবে।”

This publication was produced with the financial support of the European Union. Its contents are the sole responsibility of Platforms for Dialogue and do not necessarily reflect the views of the European Union.


21 views0 comments