top of page

নিউজলেটার | ভলিউম ১৪ | মে-জুলাই ২০২২

Updated: Dec 6, 2022



ডিপিএফগুলো জেলা পর্যায়ের অংশীজন এবং স্বত্বভোগীদের সাথে সংযোগ অব্যাহত রাখছে

এই প্রান্তিক জুড়ে ১২টি ডিপিএফ মে, জুন এবং জুলাই মাসে তাদের মাসিক সমন্বয় সভার আয়োজন করেছে এবং কুষ্টিয়া, নাটোর, পঞ্চগড়, জামালপুর, নীলফামারী এবং বাগেরহাট জেলার ডিপিএফ-সমূহ সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দের জন্য সামাজিক জবাবদিহি উপকরণের উপর অনলাইন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। এই প্রশিক্ষণগুলিতে প্রতিটি জেলায় ৩০ জন সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেছেন যারা ইতিপূর্বে পিফরডি‘র কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না। এই প্রশিক্ষণগুলোতে সহায়তা প্রদান ও সঞ্চালনা করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ।


এছাড়াও ডিপিএফগুলো, আরও মানসম্পন্ন ও কার্যকর পরিষেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচিত বিষয়গুলো সংযুক্ত করে জেলা কমিশনারসহ জেলা পর্যায়ের অংশীজনদেরকে সম্পৃক্ত করতে ১২টি জেলার প্রতিটিতে অংশীজন সভার আয়োজন করেছে।


সবশেষে, ২১টি জেলায় মাস্টার ট্রেইনারদের জন্য ডিজিটাল লিটারেসি প্রশিক্ষণের উপর একটি টিওটি (প্রশিক্ষকের প্রশিক্ষণ) আয়োজন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য প্রতিটি ম্যাপ (মাল্টি অ্যাক্টর পার্টনারশিপ) গ্রুপ এবং ডিপিএফ থেকে দুজন করে অংশগ্রহণকারী নির্বাচন করা হয়েছে। অনলাইনে কাজ করার নতুন বাস্তবতার সাথে সমন্বয় করে ডিজিটাল অফিসের দক্ষতা উন্নয়নে স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে সহায়তা করার জন্য এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের মূলে ছিল কার্যকরভাবে ভিডিও সভা ও ভার্চুয়াল প্রশিক্ষণ আয়োজন এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর উপযুক্ত ব্যবহার।


শেষ হল পঞ্চম সামাজিক মাধ্যম প্রচারাভিযান

সামাজিক জবাবদিহি উপকরণসমূহের উপর পিফরডি‘র চলমান সচেতনতামূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে বিগত দুই প্রান্তিক জুড়ে আমরা পঞ্চম সামাজিক সচেতনতা প্রচারণা চালিয়েছি। ২০২২ এর ১০ ​​মার্চ শুরু হয়ে ১৫ জুনে শেষ হয় সামাজি

ক মাধ্যমে পরিচালিত এই প্রচারাভিযান৷ এ সময়ের মধ্যে আমরা প্রায় ৭০ লক্ষ একক ব্যাবহারকারির পৌঁছেছি, যা আগের প্রচারাভিযানের তুলনায় ১.১৯ গুণ বেশি ৷পোস্ট শেয়ার, মন্তব্য প্রদান এবং সম্পৃক্ত হবার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মেট্রিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিষয়বস্তুর কার্যকারিতা বৃদ্ধির কারণে সার্বিক ফলাফলের উন্নয়ন ঘটেছে। পঞ্চম প্রচারাভিযানে আমরা বিশেষভাবে ১২টি ডিপিএফ জেলার মানুষকে লক্ষ্য করে কাজ করেছি যার ফলে আমাদের টারগেটিং আরও নিবিড় ও সুনির্দিষ্ট হয়েছে।


এই প্রচারাভিযানে ইনফোগ্রাফিক্স, ফটোগ্রাফিক্স, সুশীল সমাজ সংগঠনের গল্প, পিএসএ এবং অ্যানিমেশন ভিডিও (বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণে ১০৪টি পোস্ট) সহ আমরা মোট ৫২টি পোস্ট প্রকাশ করেছি। পাশাপাশি ভার্চুয়াল সিআরসি-তেও পোস্ট করা হয়েছে। এছাড়াও নাগরিকদের সামাজিক জবাবদিহি উপকরণসমূহ ব্যবহারে উৎসাহ প্রদানের জন্য আমরা সদ্য রূপান্তরিত চরিত্রগুলির সাথে সামাজিক জবাবদিহি উপকরণের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ যোগ করে চারটি সংক্ষিপ্ত অ্যানিমেশন ভিডিও এবং একটি কল-টু-অ্যাকশন ভিডিও প্রকাশ করেছি। সামগ্রিকভাবে, প্রচারাভিযানের বিষয়বস্তু, সচেতনতা বৃদ্ধি ও কল-টু-অ্যাকশনের মিশ্রণে একটি পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল নতুন এবং আকর্ষণীয় বিষয়বস্তুর মাধ্যমে আমাদের শ্রোতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং উদ্দিষ্ট জনগোষ্ঠির মধ্যে উপকরণসমূহের ওপর আরও কার্যকর সচেতনতা তৈরি করা।


আমাদের অনলাইন ফলোয়ার বাড়াতে প্রচারাভিযান চলাকালে আমরা একই সাথে পেইজ লাইক বাড়াতে বিজ্ঞাপনের প্রচার অব্যাহত রেখেছি। এর ফলে হাজার হাজার অনুসারি যোগ হয়েছে, যা আমাদের অরগানিক রিচ বাড়াতে সাহায্য করেছে। ফলোয়ার সংখ্যা বাড়ার পর আমাদের ফলোয়ার অনুপাত আবারও পুরুষ-প্রধান হওয়ার দিকে ঝুঁকেছে। তবে আমাদের পুরুষ এবং নারী ফলোয়ার সংখ্যা উভয়ই বেড়েছে। যেহেতু এটি আমাদের শেষদিকের সামাজিক মাধ্যম প্রচারাভিযান, তাই আমরা মূল শিখনসমূহ প্রয়োগ করে ষষ্ঠ সামাজিক মাধ্যম প্রচারাভিযান পরিচালনা করবো। এবারের প্রচারাভিযান থেকে পাওয়া মূল শিখনগুলো হলো:

  • অন্যান্য বিষয়বস্তুর তুলনায় ভিডিও এবং ফটো গ্রাফিক্স বেশি সাড়া পেয়ে থাকে। দর্শক চরিত্র নির্ভর বিষয়বস্তুতে অধিক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখান এবং এটি দর্শকের কাছে আমাদের সামাজিক মাধ্যম প্রচারাভিযানকে অনন্যভাবে উপস্থাপন করেছে।

  • সংক্ষিপ্ত এবং সহজপাঠ্য পোস্টগুলো আরও ভাল ফলাফল অর্জন করেছে। কিন্তু, সামাজিক জবাবদিহি উপকরণসমূহে অভিগম্যতা এবং সেবা পাবার ক্ষেত্রে মানুষ যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হয়েছিল- সে সম্পর্কে তারা আরও অনুসন্ধিৎসু হয়েছে এবং ডিরেক্ট মেসেজ ও কমেন্টে নিজেদের মতামত জানিয়েছে। এতে বোঝা যায় যে, আমাদের বর্তমান বিষবস্তুর চেয়ে আরও বিস্তৃত ব্যাখ্যা সম্বলিত ভিডিও এবং ইনফোগ্রাফিক্স তাদের চাহিদা মেটাতে পারে, পিফরডি‘র প্রতি আস্থা বাড়াতে পারে এবং আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর সাথে সংযুক্তি বাড়াতে পারে।

  • অংশীদারমূলক সামাজিক মাধ্যমে (ফেইসবুক এবং ইউটিউব) পোস্ট চালিয়ে যাওয়া এবং আমাদের নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে (ওয়েবসাইট এবং ভিসিআরসি) দর্শকদের (কুকিজ/পিক্সেল/ট্যাগ ব্যবহার করে) টার্গেট করা আরও ভাল ফলাফল প্রাপ্তিকে ত্বরাণ্বিত করবে, এবং পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের দর্শকদেরকে আরও গভীরভাবে বুঝতে সহায়তা করবে।

ডিপিএফ এর সাফল্য: বাগেরহাটে গণশুনানি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধানে সহায়তা করছে


১২টি জেলায় ডিপিএফ জেলা পর্যায়ের সরকারি প্রশাসনকে গণশুনানি আয়োজনে সহায়তা করছে। এর ফলশ্রুতিতে নাগরিকগণ একটি প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণ করতে পারছেন। তারা স্থানীয় সমস্যা সম্পর্কে কথা বলতে এবং সমস্যার সমাধানে কমিউনিটির অংশীজনদের সাথে যৌথভাবে কাজ করতে পারছেন। এ পর্যন্ত, প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত ১২টিজেলার প্রতিটিতে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই শুনানিগুলি নাগরিকদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য একটি অর্থপূর্ণ সুযোগ তৈরি করছে কারণ প্রতিটি সংলাপ জনসাধারণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করছে। ফলে, অংশগ্রহণ এবং সামাজিক সক্রিয়তার সংস্কৃতিতে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে উঠছে; যা সামাজিক জবাবদিহি নীতি এবং নাগরিক অধিকারগুলো ব্যবহারের গুরুত্বকে দৃঢ়তা দিচ্ছে। বাগেরহাটের কিছু বাস্তব গল্প এখানে তুলে ধরা হল:

গণশুনানির মাধ্যমে নাগরিকগন সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের সুফল পাচ্ছে

আয়েশা একজন অল্পবয়সী পরিত্যক্ত শিশু, যাকে দত্তক নিয়েছিলেন মনোয়ারা বেগম, যিনি নিজে একজন সংগ্রামী বিধবা নারী। আয়েশা একজন মেধাবী ছাত্রী হিসেবে বেড়ে উঠছে এবং বড় হয়ে সে স্বাবলম্বী এবং স্বাধীন হতে চায়। তবে, আয়েশা অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। স্থানীয় সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের অধীনে আয়েশাকে নিবন্ধন করার জন্য প্রধান শিক্ষক, মিস আসমা, গত ১২ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে বাগেরহাট ডিপিএফ আয়োজিত গণশুনানিতে বক্তব্য রাখেন। তার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে আয়েশার জন্য নগদ সহায়তা হিসেবে ৩০০০ টাকা এবং তার দত্তক নেওয়া মায়ের জন্য একটি বিধবা কার্ড বরাদ্দ দেয়।১২টি জেলায় ডিপিএফ-গুলো নাগরিকদের স্থানীয় প্রশাসন এবং সুশীল সমাজ সংস্থাগুলোর সাথে অর্থপূর্ণ সংলাপ আয়োজনের মাধ্যমে কীভাবে সরাসরি উপকৃত হতে সহায়তা করেছে; এটি তার একটি জলন্ত উদাহরণ। মিস আসমা তার কমিউনিটির মানুষের কষ্টের কথা প্রশাসনকে জানিয়ে একজন সক্রিয় নাগরিক হিসেবে তার দায়িত্ব পালন করেছেন। নাগরিকগণ যদি প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে তাদের মতামত প্রকাশ এবং প্রয়োজন জানানোর জন্য সঠিক মাধ্যম ব্যবহার করেন, স্থানীয় প্রশাসন তাদের এখতিয়ারে অন্তর্ভুক্ত মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে। এধরনের গণশুনানি শুধুমাত্র নাগরিক এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের ধারণা বিনিময়ের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে না, বরং সামাজিক ন্যায়বিচারকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে।


উপজেলা ওয়েবসাইট-এর হালনাগাদকরণ

স্থানীয় সরকার ওয়েবসাইটগুলো নাগরিকদের জন্য সরকারি পরিষেবাসমূহ বুঝতে ও অভিগম্যতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। স্মার্ট ফোন এবং ইন্টারনেটের ব্যাপক ব্যবহার সত্ত্বেও, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি জনাব শামীম লক্ষ্য করেছেন যে, বাগেরহাটের অনেক উপজেলা ও জেলা ওয়েবসাইটগুলো হালনাগাদ করা হয়নি। নাগরিক পরিষেবা প্রদান উন্নত করার প্রয়াসে, স্থানীয় সরকার ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের দ্বারা আয়োজিত একটি গণশুনানিতে শামীম বিষয়টি উত্থাপন করেন। বাগেরহাট জেলার ডিসি (জেলা কমিশনার) বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছেন এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওয়েবসাইট আপডেট করার জন্য দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। ডিসি জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির (ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট কোঅর্ডিনেশন কমিটি) সাথে একটি বৈঠকও ডেকেছেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে তাদের পরামর্শ চেয়েছেন। কমিটির সদস্য হিসেবে বৈঠকে বাগেরহাট ডিপিএফ এর সভাপতি তার উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। দ্রুত এবং কার্যকরভাবে সমস্যার সমাধান করতে নাগরিক এবং সরকারী কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শসহ প্রদেয় তথ্যসমূহ এক্ষেত্রে ব্যাপক সহায়তা করেছে। স্থানীয় সরকারের ওয়েবসাইট থেকে ব্যবহারযোগ্য তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, জনস্বার্থ রক্ষা করা সহ গুরুত্বপূর্ণ এধরনের বিষয়মসমূহ উত্থাপন করায় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ধন্যবাদ পাবার দাবি রাখেন, যা গণশুনানির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে, জেলা এবং উপজেলা ওয়েবসাইটগুলো হালনাগাদের কাজ চলছে।


বাগেরহাটে স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটির (এসএমসি) কার্যক্রম তদারকি


একই গণশুনানিতে, আরেকজন ডিপিএফ সদস্য, মিস আফরোজা আহাম্মেদ দাবি করেছেন যে উন্নত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য কিছু স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) তাদের দায়িত্ব পালন করছে না। এছাড়াও শিক্ষা অফিস ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছিল না বিধায় স্কুল পরিচালনা কমিটির জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ ও তাদের কার্যক্রমে তদারকির অভাব ছিল। অভিযোগ শুনে এসএমসি মিটিংগুলো পর্যবেক্ষণ করার জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন। জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ আবু হানিফ, কার্যক্রম নীরিক্ষা করার জন্য খাসেরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন এবং এসএমসিকে তাদের দায়িত্ব পালনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। ডিইও নিশ্চিত করেছেন যে তারা এসএমসি‘র কর্মক্ষমতা উন্নয়নে জেলা জুড়ে নীরিক্ষা চালিয়ে যাবেন।


গত এক দশক ধরে বাংলাদেশে শিক্ষার উন্নতি হচ্ছে, এবং অনেক অংশীজন পরবর্তী প্রজন্মকে শিক্ষিত করার জন্য সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। ছাত্রদের জন্য সুষ্ঠু এবং সর্বব্যাপী শিক্ষা নিশ্চিত করতে এসএমসি সমূহ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তবে, যথাযথ নিরীক্ষণ ও মূল্যায়ন ছাড়া তারা দিকনির্দেশনা হারাতে পারে এবং এতে স্কুল পরিচালনা ব্যবস্থায় কার্যকারিতার অভাব হতে পারে। জেলার উন্নয়নে সহায়তা করতে তরুণদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান এবং দক্ষতা প্রদানের লক্ষ্যে বাগেরহাট ডিপিএফ সদস্যরা স্থানীয় সরকার সংস্থার সাথে মানসম্মত শিক্ষার পক্ষে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।


সামাজিক জবাবদিহি নিশ্চিতকরণে গণমাধ্যমের ভূমিকার স্বীকৃতি প্রদান: এনআইএমসি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড

মে মাসে পিফরডি'র অংশীদারিত্বে এনআইএমসি পরিচালিত চূড়ান্ত সাংবাদিক প্রশিক্ষণ সমাপ্তির পর, কৌশলগত যোগাযোগের ওপর সাংবাদিক প্রশিক্ষণের মোট ২৭ টি ব্যাচ নিয়ে (জেলা-পর্যায়ের সাংবাদিকদের জন্য ২১টি, নারী সাংবাদিকদের জন্য ২টি এবং অডিও সম্প্রচারকারীদের জন্য ৪টি), গত ৩১ জুলাই ২০২২ তারিখে এনআইএমসি 'মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২২' অনুষ্ঠানের আয়োজন করে । অনুষ্ঠানে, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল (এনআইএস), তথ্য অধিকার আইন (আরটিআই) সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি (সিসি), অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (জিআরএস), এবং বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) বিষয়ে সাংবাদিকতার মাধ্যমে সামাজিক জবাবদিহিতা প্রচারে অবদান রাখার জন্য ২০ জন সাংবাদিককে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।


এ অনুষ্ঠান এবং প্রতিযোগিতাটি ছিল এনআইএমসি এবং প্ল্যাটফর্মস ফর ডায়ালগের মধ্যে দু বছরব্যাপী অংশীদারিত্বের চূড়ান্ত ফলাফল। স্থানীয় পর্যায়ের সাংবাদিকদের সংবাদ মাধ্যমে জবাবদিহিতা প্রচারে মানসম্পন্ন কাজ চালিয়ে যেতে ও তাদের শেখা দক্ষতাসমূহ প্রয়োগে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে কার্যক্রমের এই চূড়ান্ত উপাদানটি নির্ধারণ করা হয়েছিল। এনআইএমসি, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সদস্য এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের কয়েকজন উর্দ্ধতন সাংবাদিকের সমন্বয়ে গঠিত জুরি বোর্ড মোট ৩০০টি জমা পড়া সংবাদ, লিখিত, অডিও ও ভিডিও প্রতিবেদন, জনসচেতনতামূলক অডিও ও ভিডিও বার্তা ইত্যাদি মূল্যায়ন করেন। ব্যাপক পর্যালোচনার পর, ভিডিও বিভাগে ৪ সাংবাদিক, প্রিন্ট মিডিয়া বিভাগে ৭ সাংবাদিক এবং অডিও বিভাগে ৯ সাংবাদিকসহ মোট ২০ জন পুরষ্কারপ্রাপ্তকে জুরি বোর্ড পুরস্কারের জন্য নির্বাচন করেন।


অনুষ্ঠানে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ২০০ জন উর্দ্ধতন ও মধ্য-পর্যায়ের সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব জনাব মো: শামসুল আরেফিন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মোঃ মকবুল হোসেইন পিএএ, পিফরডি‘র প্রকল্প পরিচালক ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মিস আয়েশা আক্তার, ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জনাব টম মিসিওশা এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের মুখ্য সচিব (টিম লিডার-শিক্ষা, মানব উন্নয়ন ও পিএফএম) জনাব হানস্ ল্যামব্রেখ্ট উপস্থিত ছিলেন।


অনুষ্ঠান চলাকালে, অংশগ্রহণকারীরা দেশে সুশাসন ও জবাবদিহিতা উন্নত করতে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দেন এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সাংবাদিকদেরকে অন্তর্ভুক্ত করায় পিফরডি-কে ধন্যবাদ জানান। বাংলাদেশে শাসন প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করণে সাংবাদিকরা যেসকল গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে পারেন মিস আয়েশা আক্তার তার বক্তব্যে সেগুলো তুলে ধরেন। তিনি এনআইএমসিকে তাদের উৎসাহ এবং কঠোর পরিশ্রমের জন্য ধন্যবাদ জানান। জনাব হানস্ ল্যামব্রেখট ল্যামব্রেখ্ট প্রশিক্ষণের ফলাফল সম্পর্কে তার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং দেশের সকল স্তরে সামাজিক জবাবদিহিতা উপকরণ প্রচারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আরও সাংবাদিক দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। টম মিসিওশা বাংলাদেশে সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জবাবদিহিতা প্রক্রিয়ায় নাগরিক ও সুশীল সমাজের কার্যকর সম্পৃক্ততা এবং অংশগ্রহণের প্রচার করা সাংবাদিকদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ -তা তুলে ধরেন। বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিলের জন্য এতো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হওয়ার জন্য তিনি এনআইএমসিকে ধন্যবাদ জানান।


পরে অনুষ্ঠানটি সংবাদপত্র, সংবাদ পোর্টাল, টিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়।

বিপিএটিসি সরকারি কর্মকর্তাদের সামাজিক জবাবদিহি উপকরণসমূহের ওপর দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে

এই প্রান্তিকে, বিপিএটিসি সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি, তথ্য অধিকার আইন, অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা, এবং জাতীয় শুদ্ধাচার নীতিমালাসহ মূল সামাজিক জবাবদিহি উপকরণের ওপর সরকাঅরি কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ/কর্মশালা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। বিপিএটিসি ২০২২ সালের মে এবং জুন মাসে জামালপুর, বান্দরবন, পঞ্চগড়, নাটোর এবং বাগেরহাটে ৩৫ জন নারীসহ মোট ২৫০ জন অংশগ্রহণকারীর সাথে মূল সামাজিক জবাবদিহি উপকরণসমূহের ওপর পাঁচটি জেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।


তারা ৯ জুন ২০২২ তারিখে ৬ জন নারী সহ ২২ জন উর্দ্ধতন এবং মধ্য-স্তরের সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে মূল সামাজিক জবাবদিহি উপকরণ বাস্তবায়নের জন্য একটি পলিসি কর্মশালার আয়োজন করে। বিপিএটিসি তিনটি ভিন্ন বিভাগে- ১) নতুন সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ (বিপিএটিসি- এর বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের অংশ), ২) জেলা প্রশাসনের উপর প্রশিক্ষণ এবং ৩) ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে পলিসি কর্মশালার আয়োজন করেছে । মোট ১,৩০৮ জন সরকারি কর্মচারী বিপিএটিসি পরিচালিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

মুখোমুখি উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সার্টিফিকেট বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনলাইন লারনিং এক্সচেঞ্জ এর সমাপ্তি


মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাথে অংশীদারিত্বে পিফরডি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাসহ অন্যান্য মন্ত্রনালয়/বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি বিষয়ে নেদারল্যান্ডে একটি দক্ষতা-উন্নয়ন কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছিল। কোভিড অতিমারির কারণে, কর্মসূচিটি অনলাইনে পরিচালিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। লার্নিং এক্সচেঞ্জ কার্যক্রমের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সরকারি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা এবং সরকারি পরিষেবা উভয়ের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের নেদারল্যান্ডস্-এ ‘ই-সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি‘ এবং ‘বার্গার সার্ভিস কোড’ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বিষয়ক জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করা।


৩১ মে থেকে ১৪ জুন, ২০২১ এর মধ্যে পরিচালিত অনলাইন লার্নিং এক্সচেঞ্জ প্রক্রিয়া শেষ হবার পর এই জুনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারদের কার্যালয়, পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, শ্রম ও কর্মসংস্থান অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো), এবং প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে মধ্য ও উর্দ্ধতন পর্যায়ের ১২ জন অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা; ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার অফ গভর্নেন্স, মিসেস তানিয়া নাদের এবং সম্মানিত প্রধান অতিথি, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, সমন্বয় ও সংস্কার, জনাব মোঃ শামসুল আরেফিন-এর কাছ থেকে তাদের প্রশিক্ষণ পরবর্তী সনদ গ্রহণ করেন।


সনদ প্রদান অনুষ্ঠানটি গত ১৪ জুন ২০২২ তারিখে ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের সনদ প্রদানের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীরা তাদের অভিজ্ঞতার বৃত্তান্ত এবং কর্মশালা থেকে তাদের শিখণসমূহ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন । অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, সমন্বয় ও সংস্কার, জনাব মোঃ শামসুল আরেফিন। সনদ গ্রহনকারী সরকারি কর্মকর্তা ও পিফরডি‘র অন্যান্য প্রকল্প কর্মকর্তাদের সাথে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন পিফরডি‘র প্রকল্প পরিচালক ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মিস আয়েশা আক্তার, পিফরডি‘র টিম লিডার জনাব আর্সেন স্টেপ্যানিয়ান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রোগ্রাম ম্যানেজার, গভর্নেন্স মিসেস তানিয়া নাদের।


ন্যাশনাল থিম্যাটিক ফোরাম: জাতীয় পর্যায়ে পলিসি সংলাপে গতি সঞ্চার

পিফরডি আনুষ্ঠানিকভাবে তিনটি মূল থিম: মানসম্মত শিক্ষা, বাল্য বিবাহ এবং কমিউনিটি ক্লিনিক-এর উপর ন্যাশনাল থিম্যাটিক ফোরাম (এনটিএফ) গঠন শুরু করে মে মাসে। এই প্রক্রিয়া চলাকালে, এনটিএফ এর জন্য মোট ৮৭৪ জন অংশগ্রহণকারী নির্বাচন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৩৩% ছিলেন নারী। প্রতিটি এনটিএফ-এ দুটি দল রয়েছে: একটি মূল নির্বাহী দল এবং একটি সাধারণ অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে গঠিত দল। মূল দলের মোট সদস্য সংখ্যা ১৪৪ এবং সাধারণ দলের সদস্য ৭৩০ জন।


এনটিএফ -এর লক্ষ্য এবং মূল দলের সদস্যদের ভূমিকা ও দায়িত্ব সম্পর্কে একটি সাধারণ ধারণা তৈরি করতে পিফরডি ২৯-৩১শে মে‘র মধ্যে প্রতিটি বিষয়ভিত্তিক গ্রুপের জন্য একটি করে মোট তিনটি অনলাইন সূচনা সভার আয়োজন করেছে। এই আয়োজন মূল দলের সদস্যদেরকে পরস্পরের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।


এসকল প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করে, ১৮ জুন ঢাকায় সরাসরি একটি পরিকল্পনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় এবং ২৬-২৮ জুলাইয়ের মধ্যে অনলাইনে মূল গ্রুপের ফলোআপ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই পরিকল্পনা সেশনের সময়, এনটিএফ মূল দলগুলো ২০২২ সালের মধ্যে এনটিএফ-এর কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন ও চূড়ান্ত করে, প্রতিটি এনটিএফ-এর জন্য সমন্বয় প্রক্রিয়া বন্টন করে, এবং দল গঠনের অনুশীলন পরিচালনা করে। আগামী প্রান্তিকে, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নীতি সংলাপ অনুষ্ঠানের আগে - এর মূল উপাদানগুলো প্রস্তুত করতে ঢাকায় এনটিএফ মূল গ্রুপের ফলো-আপ সভা অনুষ্ঠিত হবে।


প্রকল্প কর্মকাণ্ডে গতি সঞ্চার


পিফরডি, প্রকল্পের ম্যান্ডেট সম্পন্ন করার জন্য কর্মকাণ্ডের গতিসঞ্চালনে মনোনিবেশ করায় প্রকল্পের লক্ষ্যিত ফলালফলের ক্ষেত্রগুলো গতি সঞ্চার এবং সমন্বয় সাধনের উদ্ভাবনী সমাধান খোঁজায় সাফল্য পাচ্ছে। এই সংমিশ্রিত কার্যক্রমের মাঝে সমন্বয় অর্জন করতে পিফরডি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, সুশীল সমাজ সংস্থা এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সাথে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বে কাজ করছে। এই দলসমূহকে একত্রিত করে নাগরিক ও সুশীল সমাজকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জবাবদিহিতা প্রক্রিয়ায় যুক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য।


শুধুমাত্র পঞ্চম বছরেই, পিফরডি প্রকল্পভুক্ত জেলাগুলোতে সুশীল সমাজের সক্ষমতা বৃদ্ধি, সংবেদনশীলকরণ, অবহিতকরণ এবং অ্যাডভোকেসির জন্য ১৮,০০০ জনেরও বেশি মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপন করেছে। এই অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছে সামাজিক অ্যাকশন প্রকল্প থেকে উপকৃত হওয়া কমিউনিটির সদস্যরা, এমএপি এবং ডিপিএফ সমূহের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ, গণমাধ্যম, শিক্ষক, তরুনসহ অন্যান্য অংশীজনেরা।


প্রকল্পের পঞ্চম বছরের সক্ষমতা বৃদ্ধি কার্যক্রম থেকে ১,৬০০ জনেরও বেশি সরকারী কর্মকর্তা উপকৃত হয়েছেন। এর মধ্যে ছিলেন জেলা এবং জাতীয় পর্যায়ের কর্মকর্তা, এসএটি ফোকাল পয়েন্ট, এবং তথ্য কর্মকর্তারা। চারটি সিভিল সার্ভিস প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সহায়তায় কার্যক্রমগুলি সম্পন্ন করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল অংশীজন সংযোগ, সামাজিক জবাবদিহি উপকরণ এবং কৌশলগত যোগাযোগ। অংশগ্রহণকারীদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে পিফরডি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে, যাতে কার্যক্রমের সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়।


সম্প্রতি, এনটিএফ নিয়ে পরিকল্পনার সময়, পিফরডি এনটিএফ সদস্যদের কাছ থেকে মতামত সংগ্রহ করে গুরুত্বপূর্ণ পলিসি ইস্যু নিয়ে তাদের গঠনমূলক সংলাপ পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করার লক্ষ্যে সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় নেতা এবং সুশীল সমাজের নেতাদের সম্পৃক্ত করছে। অংশীদারী সিএসও, এমএপি এবং ডিপিএফ থেকে আসা এই সদস্যরা জাতীয় নীতি নির্ধারণে স্থানীয় পর্যায়ের জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে। এটি শুধুমাত্র জাতীয় নীতি নির্ধারণী আলোচনায় মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতার অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করবে না, এটি আমাদের স্থানীয়-পর্যায়ের কার্যক্রম এবং জাতীয় সংলাপের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করবে।


আমাদের কার্যক্রমগুলো কীভাবে একে অপরের সাথে সংযুক্ত হতে শুরু করেছে, গতি সঞ্চার করেছে এবং আমাদের প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তার আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই সমন্বয়গুলো নাগরিক, সরকার এবং সুশীল সমাজকে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার জন্য অর্থপূর্ণ সংলাপে পরষ্পর সম্পৃক্ত হবার বাস্তব সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।


প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবার পর পিফরডি প্রকল্পের কার্যক্রম টেকসই করার বিষয়ে ‘প্রকল্প প্রস্থান কৌশল- ওয়ার্কিং গ্রুপ’ আলোচনা শুরু করেছে


পিফরডি প্রকল্প বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্বে প্রবেশ করায় মূল লক্ষ্যে পৌঁছাতে এবং প্রকল্পের কার্যক্রমকে টেকসই করার পদ্ধতি নির্ধারণ করতে আমরা মে মাসে একটি ‘প্রকল্প প্রস্থান কৌশল ওয়ার্কিং গ্রুপ’ (Exit Strategy Working Group - ESWG) তৈরি করেছি। কিভাবে প্রকল্প কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা হবে, এবং উপযুক্ত সময়ে অংশীদারদের কাছে হস্তান্তর করা হবে যারা আমাদের প্রকল্প বন্ধ হবার পরেও পিফরডি প্রকল্পের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন-তার একটি রূপরেখা প্রদান করবে এই ওয়ার্কিং গ্রুপ।


প্রকল্প টিম থেকে আট সদস্যের ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইএসডব্লিউজি) গঠন করা হয়েছে, যারা প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করে কার্যাবলী, পদক্ষেপসমূহ, রেস্পন্সিবিলিটি মেট্রিক্স, বরাদ্দের পরিমাণ এবং সময়সীমা নিয়ে একটি খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করেছে। গত জুন মাসে দু‘দিনের একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা কর্মশালা সহ বেশ কয়েকটি ব্রেইষ্টর্মিং ও পরিকল্পনা সেশনের আয়োজন করে ইএসডব্লিউজি, যেখানে সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহকর্মীদের সাথে প্রাথমিক ধারণাগুলি বিনিময় করা হয়। ব্রিটিশ কাউন্সিলের ডিরেক্টর-প্রোগ্রামস্ মিস জেসিকা ম্যাগসন, এবং অ্যাসিসটেন্ট ডিরেক্টর-কালচারাল এনগেজমেন্ট জনাব তৌফিক হাসানও পরিকল্পনা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।


একটি খসড়া প্রস্তাব (ফাউন্ডেশন ডকুমেন্ট) তৈরি করেছে ইএসডব্লিউজি এবং প্রয়োজনে প্রকল্প ও অংশীজনদের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্থান কৌশলকে আরও সুচারু রূপদানের কাজটি চলমান রাখবে তারা।

এই প্রকাশনাটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় তৈরি। প্রকাশনার বিষয়বস্তুর দায়িত্ব প্ল্যাটফর্মস ফর ডায়ালগ প্রকল্পের। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতামতকে প্রতিফলিত নাও করতে পারে।


28 views0 comments

コメント


bottom of page