• Platforms for Dialogue

নিউজলেটার ভলিউম ৩, অগাস্ট -অক্টোবর ২০১৯

Updated: Dec 24, 2020


পরিবর্তনের জন্য সংলাপ

পিডিএফ ডাউনলোড করুন↓

তথ্য অধিকার দিবস: সামাজিক জবাবদিহি প্রচারণা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার উৎস জনগন। যদিও অনেক নাগরিকই তথ্য অধিকারসহ তাদের বিভিন্ন অধিকার ও সরকারি সেবাসমূহ সম্পর্কে অসচেতন। এই সমস্যা সমাধানকল্পে, জনগণের মধ্যে সংবিধানের প্রতি মালিকানা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইন প্রচলন করা হয়। ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের অংশীদারিত্বে পরিচালিত ও ব্রিটিশ কাউন্সিল কর্তৃক  বাস্তবায়িত।

প্লাটফর্মস ফর ডায়ালগ প্রকল্পটি সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে তথ্য অধিকার আইন সহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ার প্রচারণা করছে।

২৮শে সেপ্টেম্বর, ইউনেসকো মনোনীত সার্বজনীন তথ্য প্রবেশাধিকার দিবস উদযাপনের জন্য, পিফরডি প্রকল্প তথ্যে ও সরকারী সেবাসমূহে নাগরিক অধিকার উন্নয়নে ২১টি প্রকল্প জেলায় সফলতার সাথে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। তথ্য অধিকার বিষয়ে প্রচারণার লক্ষ্যে তথ্য অধিকার দিবসে পিফরডি প্রকল্প বিভিন্ন কমিউনিটি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ৬৩ টি সহযোগী সুশীল সমাজ সংগঠন, মাল্টি-এ্যাক্টর পার্টনার স্থানীয় এনজিও এবং সরকারী সংস্থাসমূহের সাথে সমন্বয় সাধন করে। র‌্যালী, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালা আয়োজনে পিফরডি প্রকল্প স্থানীয় পার্টনারদের সহায়তা প্রদান করে। দেশজুড়ে একদিনের এ অনুষ্ঠানে ৬,৩০০ অংশগ্রহণকারী জরো হবার গৌরব অর্জন করে এবং তাদের প্রায় অর্ধেকই হচ্ছে নারী। আজ অবধি, এটি হচ্ছে এই প্রকল্পে সমন্বিত কমিউনিটি ও স্বেচ্ছাসেবক কর্তৃক পরিচালিত অনুষ্ঠানগুলির সর্ববৃহৎ একটি উদ্যোগ। 

ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আফসান চৌধুরীর একটি সাম্প্রতিক গবেষণা মতে,

‘প্রতি ৪ জন মানুষের মধ্যে ৩ জনই তথ্য অধিকার সম্পর্কে সচেতন নন, এবং ২০ জনের মধ্যে ১ জন তথ্য অধিকার আইনের প্রয়োগ দেখেছেন।’

এই বিস্ময়কর তথ্যের উন্নয়নের প্রয়াসে, স্থানীয় জনগণকে তথ্য অধিকার  আইন ২০০৯ সম্পর্কে অবগতকরণ এবং সেবা প্রদানকারী যে-কোন প্রতিষ্ঠান থেকে কীভাবে তথ্য পাওয়া যেতে পারে সে বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক ও প্রাসঙ্গিক নির্দেশনা প্রদানের লক্ষ্যে পিফরডি প্রকল্পের কার্যক্রমসমূহ সাজানো হয়েছে।তথ্য অধিকার বিষয়ে জনগণকে শিক্ষিত করা গুরুত্বপূর্ণ, কেননা তথ্য সরকারী সেবা প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং নাগরিকদের কাছে সে সেবাসমূহের চাহিদার মধ্যে সংযোগ সাধন করে। তথ্য হচ্ছে ক্ষমতা, এবং সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্য প্রাপ্তি নাগরিকগণকে তাদের জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম করে তোলে।মুন্সিগঞ্জ জেলার একজন মাল্টি-এ্যাক্টর পার্টনার সদস্য মো: তাজুল ইসলাম বলেন,“তথ্য অধিকার আইন ও এর ব্যবহার সম্পর্কে আরও বিশদভাবে জানতে এই অনুষ্ঠানটি আমাকে ব্যাপক সহায়তা করেছে। এই আইনের মাধ্যমে কীভাবে যথাযথভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে হয় আমি তা শিখেছি। এটি সত্যিই আমাকে কার্যকরী তথ্য পেতে সহায়তা করবে।”  অন্য একজন অংশগ্রহণকারী যৌথ-আয়োজক গোপালগঞ্জ উলপুর যুব কল্যান পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রুবেল উকিল বলেন, “আমাদের নেতৃত্বে প্রথমবারের মত তথ্য অধিকার দিবস পালন করা হচ্ছে। দিবসটি উদযাপনের মাধ্যমে আমরা সরকারী কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিবৃন্দ, সাংবাদিক, স্থানীয় জনগণ, এনজিওসমূহ ও অন্যান্য অংশীজনদের সাথে ঘনিষ্ঠ হবার সুযোগ পেয়েছি। বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকে আমরা জানতে পেরেছি তথ্য অধিকার আইনটি কীভাবে দুর্নীতি দমনে আমাদেরকে সাহায্য করতে পারে।” অধিকতর সচেতন ও কর্মদ্যোগী জনগণকে সাথে নিয়ে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাদের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার উন্নয়নে শুধুমাত্র অনুপ্রাণিতই হবেনা, বরং সচেতন গোষ্ঠি সমন্বিতভাবে তাদের জীবনে সুফল বয়ে আনবে।  


সারা বাংলাদেশে, অনেক নাগরিকই সরকারি সেবা কীভাবে পাওয়া যাবে সে বিষয়ে অসচেতন। সরকারী সেবা সমূহ প্রাথমিক পর্যায়ে কোথায় পাওয়া যাবে সে বিষয়ে জ্ঞান না থাকাতে  বিশেষ করে অসচেতন জনগোষ্ঠি বেশি ভোগান্তির শিকার হয়। স্থানীয় জনগণকে সরকারি সেবা প্রাপ্তি ও এ বিষয়ে জানতে যে উপকরণ ও তথ্যের প্রয়োজন তা প্রদানে প্লাটফর্মস ফর ডায়ালগ (পিফরডি)  প্রকল্প ২১টি জেলায় দ্বিতীয় প্রজন্মের নাগরিক সনদ চূড়ান্তকরণে সহায়তা প্রদান করেছে।

নাগরিক সনদ হল নাগরিক ও সরকারী সেবা প্রদানকারীদের মধ্যে একটি লিখিত চুক্তিনামা যেখানে সেবা সম্পর্কিত তথ্যের বর্ননা ও এগুলো প্রাপ্তির উপায় বিধৃত থাকে।মূলত: ২০০৭ সালে বাংলাদেশ সরকার নাগরিক সনদ-এর প্রবর্তন করে।যাহোক, সরকারী পর্যালোচনার পর ২০১৭ সালে দ্বিতীয় প্রজন্মের নাগরিক সনদ প্রকাশিত হয়।



1 view0 comments