top of page

মানসম্মত শিক্ষার পুনর্জাগরণে কাজ করছে ডিপিএফ কিশোরগঞ্জ

Updated: Dec 12, 2022


জনসাধারণের কাছে সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ব্যাপারে কিশোরগঞ্জের ডিপিএফ সদস্যরা আলোচনা করছেন

বাংলাদেশ প্রতিবছর বন্যা, নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতাসহ নানারকম প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হয় যার কারণে এদেশের ভাটি অঞ্চলের মানুষকে অনেক ভুগতে হয়। “ভাটি অঞ্চলের জেলা হওয়ায় নানারকম সামাজিক সমস্যায় জর্জরিত কিশোরগঞ্জ। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সুশিক্ষার অভাব। তাই যখন পিফরডি তিনটি সামাজিক সমস্যাকে কেন্দ্র করে সামাজিক দায়বদ্ধতার উপকরণগুলো নিয়ে কাজ শুরু করল, তখন আমাদের মনে হলোশিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করাই আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো হবে।” বলছিলেন কিশোরগঞ্জ ডিস্ট্রিক্ট পলিসি ফোরামের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চৌধুরী।


প্লাটফর্মস ফর ডায়ালগ (পিফরডি) প্রকল্পের একটি নতুন উদ্যোগ ডিস্ট্রিক্ট পলিসি ফোরাম। সামাজিক দায়বদ্ধতার চারটি উপকরণ ব্যবহার করে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে স্থানীয় সরকার ও জনসাধারণকে যুক্ত করতে কাজ করছে জেলাভিত্তিক এই ফোরাম। শিক্ষক, সাংবাদিক, স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ মোট ২০ জন সদস্য নিয়ে ২০২১ সালের ১১ এপ্রিল ফোরামটি গঠিত হয়। মহামারীকালে গঠিত হওয়ায় ফোরামের সকল কার্যক্রম অনলাইনেই পরিচালিত হয়। ওই বছরের ১৯ মে অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যম জুমে মিটিং পরিচালনার ওপর একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে, ২৭মে থেকে ডিপিএফ সদস্যরা ১৫ দিনব্যাপী প্রাথমিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।


ডিপিএফের প্রচারাভিযানের অন্যতম অংশ হলো সামাজিক দায়বদ্ধতার চারটি উপকরণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা। যে কারণে ফোরামের সদস্যদেরকে এসব উপকরণের উপরও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, “তারা উপকরণগুলো সম্পর্কে খুব বেশি জানতেন না। এখন তারা সিটিজেন চার্টার স্থাপন করা, অভিযোগ দাখিল করা, তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং শুদ্ধাচার কৌশল অনুশীলন করা সম্পর্কে ভালো ভাবেই জানেন। আমি মনে করি, সবারই এসব উপকরণ সম্পর্কে জানা উচিত। কারণ এগুলোই সুশাসন নিশ্চিত করে।”


কিশোরগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত বিন্নাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কল্যাণী ইনক্লুসিভ

ডিপিএফ সদস্য মীর আশরাফ উদ্দিন বলেন, “আমরা চাই স্কুল কর্তৃপক্ষ কোচিং সেন্টার বন্ধে আরও সক্রিয় হোক।”
ডিপিএফ সদস্য মীর আশরাফ উদ্দিন বলেন, “আমরা চাই স্কুল কর্তৃপক্ষ কোচিং সেন্টার বন্ধে আরও সক্রিয় হোক।”

প্রাথমিক বিদ্যালয়, কড়িয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিপিএফ সদস্যরা একটি প্রশ্নপত্র পাঠান। পরবর্তীতে এসব প্রশ্নের ভিত্তিতে জেলার শিক্ষা পরিস্থিতির ওপর তারা একটি সমীক্ষা পরিচালনা করেন। প্রশ্নাবলীতে নিচের প্রশ্নগুলো ছিল –

  • গত দুইমাসে কি কোন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিদর্শনে এসেছিলেন?

  • পরিদর্শনে কী ধরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল?

  • কোনও নির্দেশনা কি বাস্তবায়িত হয়েছে?

  • কোচিং সেন্টারের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা হ্রাসে স্কুল কর্তৃপক্ষ কি কোনো উদ্যোগ নিয়েছে?

ডিপিএফ সদস্য মীর আশরাফ উদ্দিন মনে করেন, কোচিং সেন্টারগুলো মানসম্মত শিক্ষা অর্জনের পথের অন্তরায়। তিনি বলেন, “আমরা চাই স্কুল কর্তৃপক্ষ কোচিং সেন্টার বন্ধে আরও সক্রিয় হোক। এছাড়া, শিক্ষার্থীদেরকে প্রাইভেট টিউটরদের কাছে পড়তেও নিরুৎসাহিত করা উচিত।”


ডিপিএফের আরেক সদস্য খুজিস্তা বেগম জোনাকী জানান, কোচিং সেন্টার ছাড়াও আরো অনেক বাধা রয়েছে। তিনি বলেন, “প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের বেতন নিয়ে সন্তুষ্ট নন। যে কারণে শিক্ষাদানে তাদের অনীহা দেখা যায়। তারা নিয়মিত স্কুলে যান না। বরং কোচিং করাতেই বেশি আগ্রহী। আমার মনে হয় তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা উচিত।”


এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক বলেন, “সব শিক্ষক অনিয়মিত নন। আমরা নিয়মিত স্কুল পরিদর্শনের চেষ্টা করি। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে আমরা যত দ্রুত সম্ভব সমাধানের চেষ্টা করি।”


 Khojista Begum Jonaky, DPF member
খোজিস্তা বেগম জোনাকি, ডিপিএফ সদস্য

২০২১ সালের ২৯ ডিসেম্বরডিপিএফএকটি গণশুনানির আয়োজন করে। সেখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা নানারকম সামাজিক সমস্যার বিষয়ে তাদের উদ্বেগ জানান।তারা ভূমি ও পাসপোর্ট অফিসে দুর্নীতি, বয়স্কভাতার মতো বিষয় নিয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের সাথে আলোচনা করেন। এছাড়া, মাদকের সহজলভ্যতার ব্যাপারে তারামাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের কাছে তাদের উদ্বেগ জানান। হারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অঞ্জলি রানী দাস শিক্ষার মানোন্নয়নে কিছু কৌশল সুপারিশ করেছেন। তিনি স্কুল অনুসারে সমস্যা শ্রেণিবদ্ধ করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “একেক এলাকায় একেক ধরণের সমস্যা দেখা যায়। কোন স্কুলের কোন সমস্যা তা আলাদা আলাদা করে খুঁজে বের করতে হবে।”


২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সভার কি-নোট তৈরি করার আগে ডিপিএফ ছোটএ কটি জরিপ চালায়। ‘শতাব্দীর কণ্ঠ’ পত্রিকার বার্তা সম্পাদক ও ডিপিএফ সদস্য এম এ আকবর খন্দকার জানান, “জরিপটি পরিচালনা করার সময় আমরা দেখি যে অনেক অফিসে সিটিজেন চার্টার নেই কিংবা থাকলেও তা হালনাগাদ করা হয়নি। আমরা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার পর তারা তা হালনাগাদ করেন।”


ফোরামের সহ-সভাপতি হাসিনা হায়দার চামেলী মনে করেন তাদের অ্যাডভোকেসি ছোট ছোট স্রোতের মত, যা ধীরে ধীরে একটি বড় স্রোতে পরিণত হবে।


“এখন মানুষ তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন। তারা জানে কোন সেবা তাদের প্রাপ্য। সুতরাং,তাদেরকে আর বোকা বানানো যাবেনা।”

ডিপিএফ সদস্য লিংকন জানান, তাদের ফেসবুক পেইজটি খুবই চমৎকার। মানুষ সামাজিক দায়বদ্ধতার উপকরণ ও শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক পোস্টগুলোতে ভালোই সাড়া দেন এবং মন্তব্য করেন।

Linkon Mia, DPF member, pointing out the contribution of DPF Kishoreganj’s social media campaigns in raising awareness about SAT
ডিপিএফ সদস্য লিংকন মিয়া জানান, সামাজিক দায়বদ্ধতার উপকরণগুলো সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডিপিএফের অবদান রয়েছে।

মহামারীর কারণে অনলাইনেই ডিপিএফের সবকার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ে কাজ করার সুযোগও ছিল সীমিত। ফোরামের সদস্যদের মতে, এ ধরনের প্রকল্পের জন্য ছয় মাস খুবই কম সময়।


প্রকল্পের মেয়াদ আরো বাড়ানো হলে ভালো হবে, কারণ তখন তারা তৃণমূলের মানুষদের সাথে কাজ করতে পারবেন। ডিপিএফ সদস্য মো: এজ্জাজ হুসাইন কাজল বলেন,“সামাজিক দায়বদ্ধতার উপকরণগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে সরকারি কর্মকর্তাদেরকে আরও ভালোভাবে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। আশা করি, উপকরণগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা আমাদের জেলায় শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে সক্ষম হব।”


এই প্রকাশনাটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় তৈরি। প্রকাশনার বিষয়বস্তুর দায়িত্ব প্ল্যাটফর্মস ফর ডায়ালগ প্রকল্পের। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতামতকে প্রতিফলিত নাও করতে পারে।

Comments


bottom of page