top of page

সরকারী সেবায় জনসাধারণের সন্তুষ্টি এবং মানসম্পন্ন সেবা দেয়ার মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনছে যে ব্যবস্থা

Updated: Dec 14, 2022



অভিযোগের নিরসন কোনও সংস্থার দক্ষতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতার এক গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসাবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। সরকারী পর্যায়ে অভিযোগ নিষ্পত্তি হ'ল একটি প্রশাসন সম্পর্কিত ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া যা নাগরিকদের উন্নত পরিষেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। বাংলাদেশ সরকার অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা বা গ্রিভেন্স রিড্রেস সিস্টেম (জিআরএস) ব্যবহার শুরু করেছে, যা সেবায় অসন্তুষ্ট হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে নাগরিকদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম। প্রশাসনকে নাগরিকদের কাছে দায়বদ্ধ করে তোলা, পরিষেবার মান উন্নত করা, এবং সুশাসন জোরদার করতে জিআরএসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


প্ল্যাটফর্মস ফর ডায়ালগ (পিফরডি) সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থার ওপর প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে যাতে স্থানীয় জনগণ ও সরকারি কর্মকর্তাগণ সফলভাবে অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাটি ব্যবহার করতে করতে পারেন। আমরা অংশীদারি সুশীল সমাজ সংস্থাগুলোকেও জিআরএস এর ওপর প্রশিক্ষণ দিয়েছি যাতে তারা স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিকদের এই নীতিমালা গুলোর ব্যবহারের শিক্ষা দিতে পারে এবং ফলস্বরূপ নাগরিকগণ ভবিষ্যতে প্রাপ্য সেবার মান নিশ্চিত করতে পারেন।


এছাড়াও, পিফরডি’র কমিউনিটি রিসোর্স সেন্টার (সিআরসি) গুলো কম্পিউটারের মাধ্যমে অনলাইন জিআরএস প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে নাগরিকদের সহায়তা করেছে। আমাদের অংশীদারী সংস্থসগুলোর বিবরণে উঠে আসা গল্পগুলি জিআরএসের কার্যকারিতা এবং সমাজের ওপর এর ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে।


২০১০ সালে মো: রিগ্যান মিয়া ও তার চাচাতো ভাইয়েরা মিলে গড়ে তোলেন শ্রমকল্যাণ যুব পাঠাগার নামের এই সংগঠন। তখনো তারা সবাই স্কুলছাত্র। বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক মো: জামিয়ার রহমান লায়ন তখন সবে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। তিনি বলেন, “সমাজের জন্য কিছু একটা করার তাগিদ থেকেই আমরা এই পাঠাগার গড়ে তুলেছি।”


“কিন্তু আমাদের বই কেনার বা বুকশেলফ বানানোর টাকা ছিল না। তাই আমরা আমাদের বাবার ধানক্ষেতে কাজ করে বই কেনার টাকা উপার্জন করেছি। আমাদের বড় চাচাতো ভাই মুক্তা বইয়ের তাক বানানোর জন্য বাঁশ দিয়েছেন। এরপর আমরা রিগ্যানের ঘরে একটি ছোট পাঠাগার গড়ে তুলেছি। এই হলো আমাদের শুরুর গল্প।”


২০১২ সালে হাত ধোয়ার জন্য বহনযোগ্য পানির ট্যাপ উদ্ভাবনের জন্য পাঠাগারটিকে নিয়ে বিটিভিতে একটি প্রতিবেদন প্রচার করা হয়। “আমরা বিভিন্ন পাত্রে একটি করে প্লাস্টিক ট্যাপ লাগিয়ে দিয়েছি আর গ্রামের মানুষকে সাবান দিয়েছি। পাশাপাশি, সচেতনতা অভিযান চালানোর কারণে গ্রামের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা দ্রুত উন্নত হয়ে যায়।”


২০১৫ সাল ছিল সংস্থাটির জন্য দারুণ সফল একটি বছর। সে বছর তারা এলাকা থেকে পতিতাবৃত্তি, মাদক ব্যবসা ও জুয়া উচ্ছেদ করে। তাদের কাজে মুগ্ধ হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান তাদেরকে ছোটখাটো বিবাদ মীমাংসার দায়িত্ব দেন।


এমন সাফল্যের ফলে সংস্থাটি ব্যাপকভাবে গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। চ্যানেল আই, চ্যানেল নাইন, যমুনা টিভি ও আরটিভির মতো বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো তাদেরকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রচার করে। ২০১৭ সালে সংস্থাটি দেশসেরা ৫০টি নাগরিক সংগঠনের মধ্যে ৩৯তম হয়ে সেন্টার ফর রিসার্চ ইনফরমেশনের জয়বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয়।


স্বাভাবিকভাবেই ব্রিটিশ কাউন্সিলের চোখেও পড়ে সংস্থাটির এসব সাফল্য। পাঠাগারটি সরকারিভাবে নিবন্ধিত না হওয়া সত্ত্বেও ব্রিটিশ কাউন্সিল তাদেরকে প্ল্যাটফর্মস ফর ডায়লগ (পিফরডি) প্রকল্পে কাজ করার আহ্বান জানায়।


“পূর্বশর্ত হিসেবে পিফরডির একজন কর্মকর্তা আমাদেরকে সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরে নিবন্ধিত করার উদ্যোগ নেন,” বলছিলেন লায়ন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে পিফরডি। সুশাসন নিশ্চিত করতে এবং সরকারের জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থায় জনসাধারণ ও নাগরিক সংগঠনগুলোকে যুক্ত করতে কাজ করছে এ প্রকল্প।


পিফরডির আওতায় শ্রমকল্যাণ যুব পাঠাগার কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসেবা, সরকারি প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ দায়ের ব্যবস্থা এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থী বিষয়ক তিনটি সোশ্যাল অ্যাকশন প্রজেক্ট (এসএপি) বাস্তবায়ন করেছে।


অভিযোগ দায়ের ব্যবস্থা বিষয়ক এসএপির পরিচালক রিগ্যান মিয়া। তিনি বলেন


“এলাকার মানুষ জানতো না কোথায় কীভাবে অভিযোগ দায়ের করতে হবে। তাই আমরা অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সবার সাথে আলোচনা করেছি। অবশেষে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে একটি অভিযোগ বাক্সও স্থাপন করেছি।”

কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক এসএপিটি পরিচালনা করেছেন মো: ইমাম হোসেন। তিনি ও তার সহযোগীরা মূলত স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা ও সক্রিয়তার ব্যাপারে সচেতনতা তৈরি করেছেন।


“এখানকার কমিউনিটি ক্লিনিকটি মোটামুটি সক্রিয়ই ছিল। আমরা শুধু এলাকার মানুষের সাথে বসে সবকিছু আরেকটু গতিশীল করার চেষ্টা করেছি। তবে আমরা সচেতনতা তৈরি করেছি। কারণ, গারাগ্রাম ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না।”


“আমরা কিশোরী মেয়েদেরকে ঋতুস্রাবের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছি। আমরা তাদেরকে জানিয়েছি যে, কমিউনিটি ক্লিনিকে স্যানিটারি ন্যাপকিন পাওয়া যায়। কমিউনিটি ক্লিনিকে যেসব সেবা ও ওষুধ পাওয়া যায়, সে ব্যাপারেও লোকজনকে জানানো হয়েছে।”



মো: গোলাম মোস্তফা ও তার কর্মীরা স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে কাজ করেছেন। তারা খামারগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া ২৫ জন ছাত্রছাত্রীর সাথে কথা বলেছেন।


“ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখা ছেড়ে দেয়ার কারণ খুঁজে বের করতে আমরা বৈঠক আয়োজন করেছি। এরপর শিক্ষক, অভিভাবক, স্কুল কমিটি ও এলাকার গণ্যমান্য মানুষদের সাহায্যে সমস্যাগুলো সমাধান করেছি। আমরা ছাত্রছাত্রীদেরকে নোটপ্যাড ও কলম দিয়েছি। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সহায়তায় আমরা পাঁচজন শিক্ষার্থীকে স্কুল ড্রেসও দিয়েছি,” বলছিলেন গোলাম মোস্তফা।


লায়ন ও তার চাচাতো ভাইয়েরা স্ব-প্রনোদিত যুব সমাজের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কাজের অংশ হিসেবে ২০১৯ সালে তারা গড়ে তুলেছেন শ্রমকল্যাণ ডিজিটাল স্কুল। তাদের আশা, গারাগ্রামের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতিকল্পে তাদের কর্মকাণ্ড আরো বিস্তৃত হবে।


এই প্রকাশনাটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় তৈরি। প্রকাশনার বিষয়বস্তুর দায়িত্ব প্ল্যাটফর্মস ফর ডায়ালগ প্রকল্পের। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতামতকে প্রতিফলিত নাও করতে পারে।


Comments


bottom of page