top of page

সামাজিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে মিডিয়ার ভূমিকা: এনআইএমসি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২২

Updated: Dec 6, 2022



সরকারি সচিব ও কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সুশীল সমাজ নেত্রীবৃন্দ এবং সাংবাদিকসহ প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে পিফরডি-এর কার্যক্রম জাতীয় সংস্থাগুলিকে সামাজিক জবাবদিহি উপকরণসমূহের ওপর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। নাগরিকদের মধ্যে সামাজিক জবাবদিহি উপকরণগুলো অনুধাবন করা এবং এর ব্যবহারকে উন্নীত করার জন্য পিফরডি-এর মিশনের অংশ হিসেবে, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় গণমাধ্যম ইন্সটিটিউট (এনআইএমসি) এর সাথে আমাদের কার্যক্রম স্থানীয় সাংবাদিকদের সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি এবং কার্যকর উপায়ে সাধারন মানুষের কাছে সামাজিক জবাবদিহি উপকরণসমূহের তথ্য পৌঁছে দেয়ার দক্ষতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।


২০১৯ সাল থেকে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সামাজিক জবাবদিহি উপকরণকে মূল উপপাদ্য করে কৌশলগত যোগাযোগ প্রশিক্ষণ পরিচালনায় পিফরডি-এর সাথে কাজ করছে এনআইএমসি। প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে জেলা তথ্য অফিসারদের সাথে এবং পরে প্রকল্পাধীন ২১টি জেলার সাংবাদিকদের সাথে কাজ শুরু করে। শুধুমাত্র গত বছরেই ৮০০ জনের বেশি সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে এনআইএমসি এবং প্রশিক্ষণের বাইরেও প্রভাব বিস্তার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সাংবাদিকদের সাথে তাদের কাজের অংশ হিসাবে, এনআইএমসি প্রশিক্ষণার্থীদের তাদের নিজ নিজ প্ল্যাটফর্মে (রেডিও, সংবাদপত্র এবং টেলিভিশন) সামাজিক জবাবদিহি উপকরণ ও এর ব্যবহারের ওপর রিপোর্ট করার জন্য উত্সাহিত করেছে। এই প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ শত শত প্রতিবেদন, ফিচার ইত্যাদি প্রকাশিত হয়েছে।


২০২২ সালের মে মাসে পিফরডি এবং এনআইএমসি-এর সর্বশেষ সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করে। কৌশলগত যোগাযোগের উপর প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষণের মোট সংখ্যা গিয়ে দাড়ায় ২৭ টি (জেলা-স্তরের সাংবাদিকদের জন্য ২১, নারী সাংবাদিকদের জন্য ২ এবং অডিও সম্প্রচারকারীদের জন্য ৪)। সাংবাদিকদের অসাধারণ কাজের স্বীকৃতি দিতে এনআইএমসি ৩১ জুলাই ২০২২-এ আয়োজন করে 'এনআইএমসি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২২'। অনুষ্ঠানে, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল (এনআইএস), তথ্য অধিকার আইন (আরটিআই), সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি (সিসি), অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (জিআরএস) এবং এবং বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) এর ওপর কাজের মাধ্যমে সামাজিক জাবাদিহি নীতিমালা প্রচারে অবদানের জন্য ২০ জন সাংবাদিককে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

প্রতিযোগিতা এবং মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানটি ছিল এনআইএমসি এবং পিফরডি-এর মধ্যে দুই

বছরের সফল অংশীদারিত্বের দ্যোতনা। কর্মপরিকল্পনার সর্বশেষ এই উপাদানটি ছিল স্থানীয় সাংবাদিকদের অর্জিত দক্ষতাগুলো প্রয়োগ করে সারা দেশের সংবাদ মাধ্যমে জবাবদিহি প্রক্রিয়া এবং শুদ্ধাচার প্রচারে তাদের উৎসাহিত করা। এনআইএমসি, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সদস্য এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার এর কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিকদের সমন্বয়ে গঠিত জুরি-বোর্ড মোট ৩০০ টিরও বেশি জমা দেয়া সংবাদ প্রকাশনা পর্যালোচনা করেছেন। পরবর্তীতে তাদের মূল্যায়নে ২০ জনকে স্বীকৃতির জন্য নির্বাচন করা হয়। ভিডিও বিভাগে ৪ সাংবাদিক, প্রিন্ট মিডিয়া বিভাগে ৭ সাংবাদিক এবং অডিও বিভাগে ৯ সাংবাদিক নির্বাচিত হন। (সম্পূর্ণ তালিকা পরের পাতায়)।


অনুষ্ঠানে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ২০০ জন উর্দ্ধতন ও মধ্য-পর্যায়ের সাংবাদিকসহ উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, জাতীয় গণমাধ্যম ইন্সটিউট, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল, ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং প্ল্যাটফর্মস ফর ডায়লগ প্রকল্পের প্রতিনিধিবর্গ।


অনুষ্ঠান চলাকালে, অংশগ্রহণকারীরা দেশে সুশাসন ও জবাবদিহিতা উন্নত করতে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দেন এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সাংবাদিকদেরকে অন্তর্ভুক্ত করায় পিফরডি-কে ধন্যবাদ জানান। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব এবং পিফরডি-এর প্রকল্প পরিচালক মিস আয়েশা আক্তার তার বক্তব্যে বাংলাদেশে শাসন প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করণে সাংবাদিকরা যেসকল গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে পারেন সেগুলো তুলে ধরেন। তিনি এনআইএমসিকে তাদের উৎসাহ এবং কঠোর পরিশ্রমের জন্য ধন্যবাদ জানান।


ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের মুখ্য সচিব (টিম লিডার-শিক্ষা, মানব উন্নয়ন ও পিএফএম) জনাব হানস্ ল্যামব্রেখ্ট প্রশিক্ষণের ফলাফল সম্পর্কে তার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং দেশের সকল স্তরে সামাজিক জবাবদিহি উপকরণ প্রচারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আরও সাংবাদিক দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।


ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর জনাব টম মিসিওশা বলেন, "২১ টি জেলায় তথ্য কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টার ফলাফল উদযাপন করতে আমি আপনার সাথে থাকতে পেরে আনন্দিত। এনআইএমসি-এর সাথে পিফরডি-এর অংশীদারিত্ব ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের একটি সংস্থা, গভর্নমেন্ট কমিউনিকেশন সার্ভিসে ইন্টারন্যাশনাল-এর বিশেষজ্ঞ সহায়তায় শুরু হয়েছিল।" এনআইএমসি এবং পিফরডি-এর মধ্যে এই শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অংশীদারিত্ব কীভাবে বাস্তব ফলাফল দেখিয়েছে তাও তিনি তুলে ধরেন এবং সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জবাবদিহি প্রক্রিয়ায় নাগরিক ও সুশীল সমাজের কার্যকর সম্পৃক্ততা এবং অংশগ্রহণ প্রচার করা সাংবাদিকদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তার ওপর জোর দেন।


সাংস্কৃতিক উপস্থাপনার মাধ্যমে মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানটি শেষ হয় এবং পরবর্তীতে সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ প্ল্যাটফর্ম এবং টিভি সহ বেশ কয়েকটি মিডিয়া আউটলেটে এ সংক্রান্ত খবর প্রচার করা হয়। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয় যে যে বাংলাদেশে সরকারি ও ব্যক্তিগত জীবনে সামাজিক জবাবদিহিতা এবং শুদ্ধচারের প্রচার জনসাধারণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।


আয়োজিত অনুষ্ঠানটি কৌশলগত যোগাযোগ প্রশিক্ষণের সাফল্যকে তুলে ধরেছে। উপরন্তু আরও প্রমাণ করেছে যে, এনআইএমসি ও পিফরডি-এর অংশীদারিত্ব শুধুমাত্র সাংবাদিকদের সক্ষমতাই বাড়ায়নি বরং মিডিয়ার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে প্রভাবিত করেছে। প্রকল্পের অংশীজনদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কারণে এনআইএমসি বর্তমানে পিফরডি-এর সাথে তৃতীয় পর্যায়ের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এই কার্যক্রম প্রকল্প শেষ হবার পর সামাজিক জবাবদিহি উপকরণসমূহের ওপর সচেতনতা বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কৌশলগত যোগাযোগ কার্যক্রমের ওপর ফোকাস করবে।


এই প্রকাশনাটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় তৈরি। প্রকাশনার বিষয়বস্তুর দায়িত্ব প্ল্যাটফর্মস ফর ডায়ালগ প্রকল্পের। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতামতকে প্রতিফলিত নাও করতে পারে।

124 views0 comments

תגובות


bottom of page