top of page

সিটিজেন'স চার্টারের প্রচারে কাজ করছে বাগেরহাটের নবারুণ সংঘ

Updated: Jul 31, 2021


“কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রাপ্য সেবার ব্যাপারে আমরা সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরী করেছি। এসএপির সমাপনী কাজ হিসেবে আমরা কমিউনিটি ক্লিনিকে আট ফুট বাই ছয় ফুট একটি সিটিজেন চার্টার স্থাপন করেছি।”

১৯৭৮ সালে সমীর বরণ পাইক ও তার বন্ধুরা মিলে বাগেরহাটের উত্তর গোপালপুর গ্রামে নবারুণ সংঘ নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় সংগঠনের কার্যালয় স্থাপনের জন্য তাদের কোনো জায়গা ছিলো না। তখন গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ শামসুদ্দীনের সহধর্মিনী রিজিয়া খাতুন তাদেরকে পাঁচ শতাংশ জমি দান করেন। অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক সমীর এখনো শ্রদ্ধাভরে মাতৃতুল্যা রিজিয়া খাতুনকে স্মরণ করেন।


শিক্ষার মাধ্যমে গোপালপুরের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করে নবারুণ সংঘ। তাই তারা স্থানীয় যুবকদের জন্য আত্মোন্নয়নের উপকরণ সরবরাহ এবং জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্র তৈরি করার মাধ্যমে তাদের গুণাবলী বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করে। নিয়মিত শিক্ষামূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পাশাপাশি একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার পরিচালনা করে সংস্থাটি।


ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ও বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সহায়তায় প্ল্যাটফর্মস ফর ডায়লগ (পিফরডি) নামের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। এ প্রকল্পের সাথে যুক্ত হয়ে নিজেদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু বিষয়ে কাজ করেছে নবারুণ সংঘ। তারা মাদকাসক্তি, কমিউনিটি ক্লিনিকে সিটিজেন চার্টারের অভাব, তথ্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাধা এবং বাল্যবিবাহ বিষয়ক চারটি সোশ্যাল অ্যাকশন প্রজেক্ট (এসএপি) বাস্তবায়ন করেছে।


এরমধ্যে বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত এসএপির তাৎক্ষণিক সুফল পাওয়া গেছে। এই এসএপি গোপালপুরের সমাজব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদী একটি পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এসএপি পরিচালক শুভ্রদেব মণ্ডল তার সহযোগী পাঁচজন মাল্টি অ্যাক্টর পার্টনারকে (এমএপি) সাথে নিয়ে ঐ এলাকায় বাল্যবিবাহের গতি রোধ করতে সক্ষম হয়েছেন।

“এমএপি গ্রুপ মিটিং এবং উঠান বৈঠকের পর ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী মেয়েদেরকে চিহ্নিত করতে আমরা একটি জরিপ চালাই। আমাদের এসএপির আওতাধীন তিনটি ওয়ার্ডে আমরা এই বয়সসীমায় থাকা ৭০টি মেয়ের তালিকা করি। সচেতনতা বাড়ানো এবং এসএপির অন্যান্য কাজ করার পাশাপাশি আমাদের কর্মীরা এই মেয়েদের ওপর সজাগ দৃষ্টি রেখেছিলেন,” বলছিলেন শুভ্রদেব।


“প্রকল্প শেষে আমরা ওই মেয়েদের ওপর আরেকটি জরিপ চালিয়ে দেখতে পাই যে একটি মেয়েরও বিয়ে হয়নি। এটা আমাদের জন্য একটা বিরাট সাফল্য ছিল।”

সভাপতি সমীর বরণ পাইক বলেন, “প্রিয়া হালদার নামের ১৬ বছর বয়সী একটি মেয়ের বাবা আমাদের কাছে তার মেয়েকে বিয়ে দেয়ার জন্য অনুমতি চাইতে এসেছিলেন। আমি তাকে সরাসরি না বলে দিয়েছি। একটি যোগ্য ছেলের সাথে মেয়ের বিয়ে ঠিক করেছিলেন উত্তম হালদার। কিন্তু তার সাথে কথা বলে আমি তার সিদ্ধান্ত বদলে দিয়েছি। পাশাপাশি, সবার জন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছি। তারা আমার ছাত্রী ছিল। তারা জানে, আমার দুই মেয়ে শিক্ষিত এবং এখন তারা বিদেশে থাকে। অবশেষে উত্তম বুঝতে পারেন এবং মেয়ের বয়স ১৮ বছর হওয়ার আগে তাকে বিয়ে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।”

শুভ্রদেব আরো জানান, তারা তাদের কাজের ফল পাচ্ছেন। “আমরা ছয়টি এমএপি গ্রুপ মিটিং, তিনটি উঠানবৈঠক, দুটি র‍্যালী, এলাকার গণ্যমান্য মানুষদের সাথে তিনটি বৈঠক, ইউনিয়ন পরিষদের সাথে দুটি বৈঠক করেছি।”

এসএপি পরিচালক নন্দীতা রানী নয়জন এমএপিকে সাথে নিয়ে মাদক নির্মূলে কাজ করেছেন। “এটা অনেক কঠিন একটা কাজ ছিল। শুরুতে আসক্তদের আত্মীয়-স্বজন তাদের পরিবারে মাদকাসক্ত থাকার কথা স্বীকার করতে চাননি। কিন্তু ধৈর্য্য এবং দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে কাজ করে আমরা অর্ধেক মাদকাসক্তকে তাদের বদভ্যাস ছাড়িয়ে দিয়েছি।”

এসএপি পরিচালক রাজিয়া খাতুন তার ছয়জন এমএপির সহায়তায় এলাকার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে সিটিজেন চার্টার না থাকার বিষয়টি সমাধান করেছেন। “কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রাপ্য সেবার ব্যাপারে আমরা সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরী করেছি। এসএপির সমাপনী কাজ হিসেবে আমরা কমিউনিটি ক্লিনিকে আট ফুট বাই ছয় ফুট একটি সিটিজেন চার্টার স্থাপন করেছি।”

১১ জন এমএপিকে সাথে নিয়ে তথ্য অধিকার বিষয়ক এসএপি পরিচালনা করেছেন শিখা রানী পাইক। তারা নীতি নির্ধারণী ব্যাপারে সাধারণ মানুষের তথ্য পাওয়ার অধিকারের বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করেছেন। সরকারী প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী হিসেবে কাজ করেছেন তারা। সাধারণ মানুষ যেন যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সেবার ব্যাপারে জানতে পারে এবং যেকোনো প্রয়োজনে নির্দ্বিধায় ইউনিয়ন পরিষদে যেতে পারে তা নিশ্চিত করাই ছিল তাদের লক্ষ্য।


“স্থানীয় সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা বেড়েছে। আমরা ইউনিয়ন পরিষদে ব্যাপক দেয়াললিখনের কাজ করেছি যেন মানুষ তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে জানতে পারে।”


গুরুত্বপূর্ণ সমাজউন্নয়নমূলক কাজের মধ্য দিয়ে নতুন কিছু বিষয় শেখার সুযোগ তৈরি করে দেয়ার জন্য পিফরডি প্রকল্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সমীর বরণ পাইক।


“পিফরডি প্রকল্পের আগে আমি তথ্য অধিকার, অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের ব্যাপারে জানতামই না! কিংবা সিটিজেন চার্টারের কাজ কী, তাও জানতাম না। আমাদের মাধ্যমে গোপালপুরে সচেতনতার আলো জ্বালিয়ে দিয়েছে পিফরডি। এজন্য আমরা ব্রিটিশ কাউন্সিলকে ধন্যবাদ জানাই।”

73 views0 comments

Comentarios


bottom of page